বিজেপিকে ‘ভোটের পাখি’ বলে কটাক্ষ করলেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাগদার বিধায়ক ও তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বিজেপিকে ‘ভোটের পাখি’ কটাক্ষ করেছেন। তিনি আজ (শুক্রবার) ওই মন্তব্য করেন।
বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস আজ বাগদা ব্লকের খয়রামারীতে মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক জনসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে তিনি একটি মতুয়া বাড়িতে দুপুরের খাবার খান। পরে মতুয়াদের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে শোনেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি বনগাঁর এমপি ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সমালোচনায় সোচ্চার হন।
বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘রাজ্যে আমরা শান্তিতে আছি, সেই শান্তি থাকবে। আগামীদিনে যেটুকু উন্নয়ন বাকি আছে, আমরা সেই উন্নয়ন করব। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি এমপি শান্তনু ঠাকুর বা যারাই এসে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিক, তাদের কথায় কোনো লাভ নেই। শান্তনু ঠাকুরকে জিতিয়ে আমরা অনুভব করেছি, বুঝতে পেরেছি যে, ওরা ‘ভোটের পাখি’। ওরা ভোট নেবে, তারপর চলে যাবে। তারপর আবার ভোটের সময়ে এসে অন্য কথা বলবে। আপনাদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আমরা সবাই আছি। আপনাদের উন্নয়নের বিষয়ে যেভাবে আপনারা বলবেন আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করব।’
বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস আরও বলেন, শান্তনু ঠাকুর বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে তিনি বাগদার এই প্রান্তিক এলাকার মানুষজনের জন্য কিছু তো দিলেনই না এবং তিনি দেখা করতেও আসেননি! আমরা আশা করেছিলাম তিনি মন্ত্রী হওয়ায় নদী অধ্যুষিত এলাকায় অনেক উন্নয়ন হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। আমি যেসব জায়গায় ঘুরছি দেখতে পাচ্ছি মানুষজন বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদীর উপর দিয়ে কীভাবে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এখান থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হলেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বলে একটা নদীর উপরে তিনি ব্রিজ তৈরি করতে পারেননি।’
আমি বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করায় বাগদা হাসপাতালের জন্য ‘দিদি’ ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন হাসপাতালকে ঢেলে সাজাবার জন্য। এরফলে প্রসূতি মায়েদের পাশাপাশি অন্যদের আর বনগাঁ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ছুটতে হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস।
অন্যদিকে, বাগদার সিন্দ্রানী পঞ্চায়েত এলাকার খয়রামারী গ্রামের মতুয়া সম্প্রদায়ের বাপী বাছাড় বলেন, ‘আমাদের আধারকার্ড, ভোটার কার্ড আছে, এটা আমাদের নাগরিকত্বের জন্য বড় প্রমাণপত্র। তিনি সাফ জানান, আমরা ‘সিএএ বা এনআরসি’ কিছুই চাই না। এটা কার্যকর হলে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হবে। আসলে এগুলো একটা ফাঁদ। আমরা এসব চাই না। আমরা চাই মানুষ শান্তিতে থাকুক।’ এ সময়ে তার সঙ্গে থাকা এলাকার মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্য মানুষজনও একই কথা বলেন। ‘শান্তনু ঠাকুর একদিন ভোটের সময় গাড়ি করে এসেছিলেন, তারপর তাঁকে আর দেখা যায়নি, আমাদের খোঁজখবর রাখেননি’ বলেও জানান বাপী বাছাড় ও অন্যরা।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমএআর/৯