'প্রতিষ্ঠিত তোলাবাজের মুখে দলত্যাগ বিরোধী আইন, দলত্যাগ রোধ- এসব মানায়?’
শুভেন্দুর বাবার বিচার চলছে, নিজ বাবাকে ‘গিরগিটি’ বলুক আগে : কুণাল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বলেছেন, ‘দলত্যাগ বিরোধী আইনে ওর বাবার বিচার চলছে। ‘গিরগিটি’ বলার হলে নিজের বাবাকে বলুক আগে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর এক বার্তার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আজ (শুক্রবার) ওই মন্তব্য করেন।
আজ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এক বার্তায় প্রশাসনকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘দলত্যাগ বিরোধী আইনে তিনদিনের মাথায় ঝালদা পৌরসভার পৌরপ্রধান পদে শপথ নেওয়া শ্রীমতি শীলা চট্টোপাধ্যায়ের কাউন্সিলর পদ খারিজ করল প্রশাসন! কিন্তু এক বছরেরও ওপরে যেসব ‘বহুরূপী বিধায়কগণ’ বিধানসভার বাইরে তৃণমূল (কেউ আবার তৃণমূলের জেলা সভাপতিও বটে), আর ভেতরে বিজেপি বলে নিজেদের পরিচয় দেন, তাদের বেলায় দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ হয় না। কারণ, তাদের ওপর 'দিদির সুরক্ষা কবচ' রয়েছে!’ ওই বার্তার সঙ্গে তিনি বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক তন্ময় ঘোষের ছবিও জুড়ে দেন।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর এ ধরণের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যে শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। আজ তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র কটাক্ষ করেন।
প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা ও দাদার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কাঁথির এমপি শিশির অধিকারী, শুভেন্দুর বাবা যিনি তৃণমূলের দয়ায়, তৃণমূলের প্রতীকে মমতা ব্যানার্জির প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন। তারপর ভোটের আগে তিনি বিজেপির মঞ্চে গেলেন এবং তৃণমূলের পক্ষে সমস্ত রকম ক্ষতিকারক এবং বিজেপির পক্ষে কাজ করে গেলেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন, বিজেপির দয়ায় শুভেন্দুর পরিবারের দু’জন শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী তাদের এমপি পদে এখনও তারা বেঁচে আছেন। কারণ, বিজেপিতে গেছেন, বিজেপির সুরক্ষায় বেঁচে আছেন। সেই পরিবারের শুভেন্দু অধিকারী যে বিজেপিতে গেছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের এফআইআর নাম থাকলেও সিবিআই তাকে গ্রেফতার করছে না। একটা প্রতিষ্ঠিত তোলাবাজ! তার মুখে দলত্যাগ বিরোধী আইন, দলত্যাগ রোধ- এসব কথা মানায়?’
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আরও বলেন, ‘ভোটের আগে তৃণমূল থেকে নিতে তখন ‘যোগদান মেলা’ (অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া) চলছিল। শব্দগুলো ভুলে গেলেন? যোগদান মানে কী? দলত্যাগ। করাননি ওনারা? যখন তখন যোগদান মেলা করিয়েছেন, তা এখন তিড়িংবিড়িং করে লাফালে হবে কেন? যদি মনে হয় সমালোচনা করবেন, আইন নিয়ে বলেন, কাউকে ‘গিরগিটি’ বলবেন তাহলে আগে নিজের বাবার দিকে তাকান, বাবাকে বলুন, তারপর ভাববেন’ বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। #
এমএএইচ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।