কাশ্মিরে হিজবুল কমান্ডার নিহত: কারফিউ জারি, বনধের ডাক হুররিয়াতের
-
বুরহান মুজাফফর ওয়ানি
জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন স্থানীয় হিজবুল কমান্ডার বুরহান মুজাফফর ওয়ানি (২১)। এ ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলওয়ামা, অনন্তনাগ এবং সোপিয়ানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আজ (শনিবার) নির্ধারিত সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বারামুল্লা-কাজিগুন্ডের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। উপত্যাকায় উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে অমরনাথ তীর্থযাত্রা স্থগিত করে দেয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুররিয়াত নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং ইয়াসীন মালিককে গৃহবন্দী করা হয়েছে।
বুরহানের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে হুররিয়াত কনফারেন্সের পক্ষ থেকে আজ শনিবার থেকে রাজ্যে তিন দিনের বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলায় গেরিলাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন বুরহান ওয়ানি। তার মাথার জন্য ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষিত ছিল। বুরহানের সঙ্গে তার অন্য দুই সহযোগীও নিহত হয়েছে।
বুরহান ওয়ানি ছিলেন কাশ্মিরে হিজবুল মুজাহিদীনের প্রথম কমান্ডার যিনি সশস্ত্র সহ-যোদ্ধাদের নিয়ে তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতেন। গত সপ্তাহে তিনি এক ভিডিও বার্তায় অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের ওপরে কোনো হামলা করা হবে না বলে জানান।
গত বছর বুরহানসহ তার অন্য সঙ্গীদের গ্রুপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকে এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আলাদা আলাদা সংঘর্ষে নিহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে বুরহান ওয়ানি ছিল হিজবুল মুজাহিদীনের ‘পোস্টার বয়’।
কাশ্মির পুলিশের মহাপরিচালক রাজেন্দ্র বলেন, বুরহানের মৃত্যু নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বড় সাফল্য এবং হিজবুলের জন্য এটি বড় ধাক্কা।
দক্ষিণ কাশ্মিরের ত্রালের হাই-প্রোফাইল পরিবারের ছেলে বুরহান ২০১০ সালে হিজবুল মুজাহিদীনে যোগ দেন। তার বাবা উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএস) স্কুলের প্রধান শিক্ষক। বুরহানের বড় ভাই খালিদ মুজাফফরও গত বছর সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন।
বুরহান নিহত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে শ্রীনগর-অনন্তনাগ জাতীয় সড়ক বন্ধ করে স্থানীয় মানুষজন রাস্তার উপরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। অন্যত্র নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ১/২ জায়গায় সিআরপিএফের বাঙ্কারে আগুন ধরিয়ে দেয়াসহ বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়। তাদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানও আহত হয়।
অনন্তনাগের বিজবেহারাতে নিহত বুরহানের দাফন সম্পন্ন হওয়ার সময় মানুষজন যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেটিই এখন নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গোটা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯