কাশ্মিরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯, শান্তি বজায় রাখার আহ্বান রাজনাথ ও মেহবুবার
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে হিজবুল মুজাহিদীনের স্থানীয় কমান্ডার বুরহান মুজাফফর ওয়ানি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ তে পৌঁছেছে। পুলিশ এবং সশস্ত্রবাহিনীর গুলিতে ওই যুবকরা নিহত হয়। এই ঘটনায় কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে সমগ্র কাশ্মির উপত্যাকা।
শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছে। আহত বিক্ষোভকারীদের অনন্তনাগের জেলা এবং উপজেলা হাসপাতাল ও পামপোর উপজেলা হাসপাতালসহ অন্যত্র ভর্তি করতে হয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু গুলিবিদ্ধ বিক্ষোভকারীও রয়েছে।
পুলিশ বলছে, তাদের ১০০ জন নিরাপত্তা কর্মী শনিবার দিনভর সংঘর্ষে আহত হয়েছে।
শনিবার কাশ্মিরের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ দিন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং শান্তি বজায় রাখার আবেদন করে টুইটার বার্তায় বলেন, ‘মূল্যবান কয়েকটি জীবন নষ্ট হওয়ার জন্য গভীরভাবে আহত। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পুলিশকে সতর্ক করে নির্দিষ্ট বিধি মেনে কাজ করার জন্য বলেছেন। তিনি গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘জননিয়ন্ত্রণে ‘ক্ষমতার সামঞ্জস্যহীন ব্যবহারের ফল’ মূল্যবান জীবন নষ্ট হওয়া’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে কাজ না হওয়ায় তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলায় গেরিলাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন বুরহান ওয়ানি।
গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, শনিবার তার জানাজা তথা দাফনে এক লাখেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দুই ডজনেরও বেশিবার তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিবাদকারীরা পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায় এবং সে দেশের পক্ষে স্লোগান দেয়। তারা আজাদি চায় এবং এখানে নিজাম এ মোস্তফা চলবে বলে স্লোগান দেয়।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘বহু বছর পর আমার শহর শ্রীনগরের মসজিদে আজাদির স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে শুনলাম।’ টুইটার বার্তায় ওমর আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসী দলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বুরহানের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ায় যা করতে পারত, তার কবর থেকে তা আরো বেশি কার্যকরী ভূমিকা নেবে।’
বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে গোটা কাশ্মিরের বিভিন্ন জায়গায় তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়।
শনিবার উত্তেজিত জনতা বান্দিপোরা, কাজিগুন্ড, লারনু, দমহাল হাজিপোরা থানা এবং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। তারা দমহাল হাজিপোরা থানায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে সেখানকার অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপরে গুলি চালালে ৩ পুলিশ কর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সিআরপিএফ এবং বিএসএফ পিকেটেও হামলা চালায়। কুলগাঁওতে বিজেপি’র দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। গোটা কাশ্মির উপত্যাকায় কারফিউ চলার পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/১০