জম্মু-কাশ্মিরে গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে
https://parstoday.ir/bn/news/india-i14905-জম্মু_কাশ্মিরে_গণমাধ্যমের_ওপর_নিষেধাজ্ঞা_মানুষের_ভোগান্তি_বাড়ছে
জম্মু-কাশ্মিরে গণমাধ্যমের ওপর কার্যত কারফিউ চলায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১৮, ২০১৬ ১২:১৫ Asia/Dhaka
  • জম্মু-কাশ্মিরে গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে

জম্মু-কাশ্মিরে গণমাধ্যমের ওপর কার্যত কারফিউ চলায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

কাশ্মির উপত্যাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর এ ঘটনায় প্রতিবাদ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতায় এপর্যন্ত কমপক্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং ১ হাজার ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানসহ ৩ হাজার ১৬০ জন আহত হয়েছে।

যদিও সরকারি পরিসংখ্যানে ১ হাজার ৯০০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০০ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে।

রাজ্যটিতে কাশ্মিরি নেতাদের ডাকা বনধ চলছে। এ ছাড়া ১০টি জেলাতেই একটানা কারফিউ, মোবাইল, ইন্টারনেট পরিষেবা, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কাশ্মিরের বারামুলা এবং জম্মুর বনিহালের মধ্যে গত ১১ দিন ধরে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। কেবল টিভি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পুনরায় তা চালু হয়েছে। একটি সূত্রে প্রকাশ, ১৯ জুলাই পর্যন্ত সংবাদপত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

শ্রীনগরে আজ সোমবারও কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়নি। এ নিয়ে গত ৩ দিন ধরে সেখানে সংবাদপত্র প্রকাশিত হল না। জম্মু-কাশ্মির সরকারের মুখপাত্র নঈম আখতারের দাবি, বাধ্য হয়েই এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়েছে। যদিও সংবাদপত্রে নিষেধাজ্ঞা কতদিন ধরে চলবে সেই বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।

শ্রীনগরে সাংবাদিকরা সংবাদপত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রোববার প্রেস কলোনিতে ধর্না অবস্থানে শামিল হন। এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সংবাদপত্রে নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হয়েছে।

মোবাইল মোবাইল পরিষেবা এবং মোবাইল ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো তথ্য পোস্ট করা যাচ্ছে না। এরফলে পারস্পারিক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতালে যেসব আহত মানুষজন অথবা অন্য রোগীরা ভর্তি রয়েছে তাদের কোনো তথ্যই ওই পরিবারের লোকজন পাচ্ছেন না। হাসপাতালে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের লাশ সংশ্লিষ্ট পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না, কারণ মোবাইল পরিষেবা বন্ধ থাকায় তাদের মৃত্যু সংবাদও পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

রাজ্যে শুধুমাত্র বিএসএনএল-এর পোস্টপেড প্ল্যানে সীমিত কল সুবিধা চালু রয়েছে। অন্যদিকে, কারফিউ চলার জন্য নতুন করে স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয় তথ্যও সঠিকভাবে সকলের মধ্যে পৌঁছাতে পারছে না।

গরমের ছুটি শেষে আজ সোমবার স্কুল কলেজ খোলার কথা থাকলেও রাজ্যের অশান্ত পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ওই ছুটিকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের মুখপাত্র নঈম আখতারের দাবি, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সোশ্যাল মিডিয়া এবং মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে লোকজনদের জড়ো করছে। এজন্য বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়েছে।

রোববার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেন, কাশ্মিরে পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি যে এখনো উদ্বেগজনক তা প্রমাণিত হচ্ছে নতুন করে রাজ্যটিতে আধা সামরিক বাহিনী পাঠানোয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে সেখানে ২৮০০ জওয়ান পাঠানো হলেও রোববার সেখানে নতুন করে আরো অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান পাঠানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রাজ্যটিতে আগে থেকে কমপক্ষে ৬০ ব্যাটেলিয়ান জওয়ান অবস্থান করছে।

এদিকে, রাজ্যে ক্ষমতাসীন পিডিপি-বিজেপি জোটের পিডিপি নেতা মুজাফফর বেগের অভিযোগ, সমন্বয়ের অভাবে কাশ্মিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডারের নিহত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, তাকে জীবিত গ্রেফতার করা উচিত ছিল। গোয়েন্দা এজেন্সি সরকারকে বিপথে চালিত করেছে বলেও মুজাফফর বেগের দাবি।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৮