মোদি পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতার মতো কথা বলছেন: রেণুকা চৌধুরী
-
কংগ্রেস নেত্রী রেণুকা চৌধুরী
পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস নেত্রী রেণুকা চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের বিরোধী দলনেতার মতো কথা বলছেন! পাকিস্তানের জনতাকে লড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন পাক সরকারের বিরুদ্ধে। নিজের দায় এড়াতে এটা কেমন কৌশল?’
নরেন্দ্র মোদি গতকাল (শনিবার) কেরালার কোঝিকোড়ে বিজেপি’র জাতীয় কাউন্সিলের এক সভায় পাকিস্তানের জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নেতাদের প্রশ্ন করুন, ভারত গোটা বিশ্বে সফটওয়্যার রফতানি করে, আর আপনাদের দেশ কেন সন্ত্রাসী?’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের জনতা আপনারা আপনাদের নেতাদের জিজ্ঞেস করুন, নিজেদের কাছে থাকা পাক অধিকৃত কাশ্মির সামলাতে পারছেন না, আগে পূর্ব পাকিস্তান যা আজ বাংলাদেশ, সেও আপনাদের কাছে ছিল, তাকে রক্ষা করতে পারেননি। আপনারা সিন্ধু, বেলুচিস্তান, গিলগিট, পাখতুনিস্তান কোনো প্রদেশই সামলাতে পারেন না আপনারা। যদিও কাশ্মিরের কথা তুলে আপনাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’
মোদি বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের জনতাকে বলতে চাই, আপনাদের বিভ্রান্ত করার জন্য আপনাদের নেতা হাজার বছর ধরে লড়াই করার কথা বলছেন। আজ দিল্লিতে যে সরকার রয়েছে, তারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব থেকে পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি পাকিস্তানিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা লড়াই করুন আপনাদের দেশকে বাঁচাতে।‘ তিনি সেদেশের জনতাকে সেখানকার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি এভাবে নজিরবিহীনভাবে পাকিস্তানি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখায় কংগ্রেস নেতা রেণুকা চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের বিরোধী দলনেতার মতো কথা বলছেন! পাকিস্তানের জনতাকে লড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন পাক সরকারের বিরুদ্ধে।’
কাশ্মিরের উরি সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড সদর দফতরে গেরিলা হামলায় ১৮ সেনা নিহত হওয়ার পর প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী ঘোষণা করেন রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল সেদিকেই। ভারতীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ওই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পত্রপাঠ ওই দাবিকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। বিনা তথ্য প্রমাণে ভারত অহেতুক দোষারোপ করছে বলে তারা মন্তব্য করেছে।
শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি নানা উত্তেজক বক্তব্য রাখলেও শেষমেশ তিনি যে যুদ্ধের পথে হাঁটছেন না, তা তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘শান্তি ও শুভবুদ্ধিই কেবল আমাদের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করতে পারে। যুদ্ধে দুর্দশা বাড়ে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত যুদ্ধ করতে চায়। কিন্তু অন্য যুদ্ধ। আসুন আমরা অশিক্ষা, কর্মহীনতা, বেকারি, অপুষ্টির বিরুদ্ধে দু’টি দেশ লড়াই করি। দেখি কারা আগে জয়ী হয়!’
গণমাধ্যমে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বুঝিয়েছেন, সীমান্ত বা নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে সন্ত্রাসী শিবির গুঁড়িয়ে দিয়ে আসা সম্ভব নয়। তাছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমেরিকা, ব্রিটেন বা জার্মানির মতো শক্তিধর দেশ যতই ভারতের পাশে দাঁড়াক, তারাই বাধা দেবে। সর্বোপরি দু’টি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয় বলেও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫