ভারতে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে গান্ধী জয়ন্তীতে উপবাস পালন করবেন স্বামী অগ্নিবেশ
-
ভারতের আর্য সমাজের প্রচারক স্বামী অগ্নিবেশ
ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমর্থনে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে উপবাস পালন করবেন আর্য সমাজের প্রচারক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী স্বামী অগ্নিবেশ। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আজ (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, স্বামী অগ্নিবেশ বলেন, ‘ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (গোটা বিশ্ব আমার আত্মীয়)-এর ঐতিহ্য রয়েছে যাতে মানবতার অবশ্য কর্তব্য পালনে লোকদের নিরাপত্তা দিতে আশ্রয় দেয়া হয়। যেভাবে ভারতে বাংলাদেশি, তিব্বতি ও আফগানিস্তানের শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে সেভাবেই রোহিঙ্গা মুসলিমদেরও আশ্রয় দেয়া উচিত।’
তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করার নিন্দা করে বলেন, সরকার একজন রোহিঙ্গার বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী হওয়ার কোনো প্রমাণ পেশ করেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি মিয়ানমারকে ভারতের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করার দাবি জানিয়েছেন।
স্বামী অগ্নিবেশ বলেন, দেশে হিন্দু এলে তাকে শরণার্থী বলা হয় কিন্তু মুসলিম আসলে সে সন্ত্রাসবাদী! কিন্তু সব মুসলিম সন্ত্রাসী হতে পারে না। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য-পানীয়ের ব্যবস্থা করা কেন্দ্রীয় সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে শরণার্থীদের ভাগ করার অভিযোগ করে স্বামী অগ্নিবেশ বলেন, এ ধরণের নীতির ফলে দেশে সাম্প্রদায়িকতা উৎসাহিত হচ্ছে।
ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কর্মসূচি নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তারা শরণার্থী নয় বরং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে ‘রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বিদেশি সন্ত্রাসী যোগ রয়েছে’ বলে দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে পাল্টা হলফনামা দিয়ে সরকারের ওই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তো দূরের কথা অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গেও তারা জড়িত নন।
স্বামী অগ্নিবেশ দেশে ভণ্ড সাধুদের তৎপরতা প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভণ্ড বাবাদের প্রতি অন্ধভক্তি দেশের জন্য বিপজ্জনক বিষয়! এসব বাবাদের জন্য গণতন্ত্র দুর্বল হচ্ছে। ঠগী বাবাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট ব্যাংক তৈরি করছে। এসব বাবাদের সম্পত্তির তদন্ত হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, বর্তমানে কেবলমাত্র রামপাল, বাবা রাম রহিম এবং আশারামই কারাগারে আছেন। কিন্তু দেশে এ ধরণের হাজারো ভণ্ড বাবা রয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৬