বামফ্রন্টশাসিত ত্রিপুরায় পরিবর্তনের ডাক দিলেন নরেন্দ্র মোদি
-
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতে বামফ্রন্টশাসিত ত্রিপুরায় পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ (বৃহস্পতিবার) তিনি ত্রিপুরায় নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ত্রিপুরা ভুল মানিক পরিয়ে দিয়েছে। এখন মানিক চাই না। মানিক থেকে মুক্তি নিয়ে আপনাদের হীরা চাই। তিনি হীরার ‘এইচ’ তে হাইওয়ে, ‘আই’ তে আইওয়ে (ডিজিটাল সংযোগ) ‘আর’ তে রোডওয়ে এবং ‘এ’তে এয়ারওয়ে বলে ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন করতে চাই। কেন্দ্রীয় সরকার সড়ক বানিয়ে উন্নয়ন করতে চায়। আমরা পূবের নীতিতে জোর দিয়েছি। আমি মনে করি দেশের ভাগ্য তখনই পরিবর্তন হবে যখন ত্রিপুরার ভাগ্য পরিবর্তন হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য সত্ত্বেও ত্রিপুরার উন্নয়ন হয়নি। ত্রিপুরা সরকার রাজ্যে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনাকারীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে রেখেছে। রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতিতে গরীবদের লুট করা হয়েছে। লাখো পরিবারকে ধ্বংস করা হয়েছে। যারা লুট করেছে তাদের সাজা দিতে হবে যাতে গরীবদের অর্থ কেউ লুট করতে না পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ত্রিপুরার ভাগ্য বদল হলেই দেশের ভাগ্য বদল হবে, তা নয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানেন ত্রিপুরায় যা ফল হবে, ত্রিপুরার মানুষ যা রায় দেবে তার ফলে গোটা ভারতে নয়া রাজনৈতিক দিশা দেখা যাবে। কারণ ওখানে গিয়ে নরেন্দ্র ভাই মোদির বিজয়রথ আটকে যাবে। ভারতের যে ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র তা রক্ষিত হবে। এবং সেখান থেকে আর একটা লড়াই শুরু হবে যে লড়াই শেষ হবে ২০১৯ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে পরাস্ত করার মধ্য দিয়ে।’
১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় ৬০ আসনের জন্য বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফল ঘোষণা হবে ৩ মার্চ। বিজেপি এখানে ‘ইন্ডিজেনিয়াস পিপলস্ ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া’র (আই পি এফ টি) জোট করে নির্বাচনে লড়ছে। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিজেপি’র সমালোচনা করে তারা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি’র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বামফ্রন্টের দাবি আইপিএফটি বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি। দেশ থেকে ত্রিপুরাকে আলাদা করাই তাদের উদ্দেশ্য।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এরইমধ্যে বলেছেন, ‘বিজেপি গোটা দেশে ‘ভারত মাতা কি জয়’ না বললে দেশপ্রেম দেখানো হয় না বলে মনে করে। কিন্তু ত্রিপুরায় বিজেপি একটি বিচ্ছিন্নতাবাদীশক্তির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে কতটা দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছে?’
অন্যদিকে, ত্রিপুরায় নির্বাচনি প্রচারে এসে অসমের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ বিজেপিকে 'দুর্নীতিপরায়ণ দল' আখ্যা দিয়ে এই নির্বাচনে তারা কর্পোরেটের কালো টাকা ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার প্রশ্ন, এত গাড়ি, চাটার্ড বিমান, হেলিকপ্টারের পয়সার উৎস কী?#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮