মোদি সরকারের ৪ বছর পূর্তি: সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে রাজনীতিকদের মূল্যায়ন
ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের চার বছর পূর্তিতে বিরোধী দলগুলো ব্যর্থতার নানা অভিযোগে সোচ্চার হয়েছে। আজ (শনিবার) কেন্দ্রীয় সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস দিনটিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ হিসেবে পালন করছে।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলামনবী আজাদ আজ (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "সরকার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৬ সালের পর গত চার বছরে সবচেয়ে বেশি সেনা ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের লোকেরা নিরাপদ নয়। মোদিজির আমলে কেউই সুরক্ষিত নয়।"
কেন্দ্রে মিথ্যাবাদী সরকার চলছে: অশোক
'মোদিজি মিথ্যাচারের সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছেন'- এ মন্তব্য করে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অশোক গেহলোট বলেন, "দেশে কমপক্ষে ছ’লাখ গ্রাম আছে যদি আঠারো হাজার গ্রামে মোদিজি বিদ্যুৎ পৌছে থাকেন, তাহলে পাঁচ লাখ বিরাশি হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ কে পৌঁছে দিয়েছে? প্রধানমন্ত্রী মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। মিথ্যা কথা বলছেন। গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ব্যাপারেও মিথ্যা বলেছেন।" কেন্দ্রে মিথ্যাবাদী সরকার চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি সমাজের সকল অংশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তপসিলি জাতি/উপজাতি ও সংখ্যালঘুরা সর্বত্র অরক্ষিত বোধ করছেন।"
মোদি সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল: পুনিয়া
কংগ্রেস নেতা পি এল পুনিয়া বলেছেন, "মোদি সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কৃষকরা ফসলের সম্পূর্ণ মূল্য পাবেন, প্রত্যেকে ১৫ লাখ টাকা করে পাবেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবে কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। মানুষ মনে করছে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে সেজন্য কংগ্রেস আজ ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করেছে।"
তিনি বলেন, "বিজেপি-আরএসএস বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দখল করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বলতে হচ্ছে সবকিছু ঠিকমত চলছে না। নির্বাচন কমিশনের প্রেস কনফারেন্সের আগেই বিজেপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করছে। আগে কখনো এরকম হয়নি। এই সরকার বছরে দু’কোটি বেকারের চাকরি দেয়ার কথা বলেছিল, যা অধরাই থেকে গেছে। এখন কর্মসংস্থানের নামে পানের দোকান, পকোড়া বিক্রির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে!"
কংগ্রেস নেতা মনিশ তিওয়ারি কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘আমার ভাষণই, আমরা প্রশাসন’। সমস্ত মাপকাঠিতে মোদি সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী বলেছেন, মোদি সরকার চার বছরে প্রত্যেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, "২০১৪ সালের আজকের দিনে আমরা ভারতের পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করেছিলাম। বিগত চার বছরে উন্নয়ন গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ১২৫ কোটি ভারতীয় দেশকে মহাউচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।"
ভারত বিশ্বে সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হবে: আদিত্যনাথ
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত বিশ্বে সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হবে। ২০১৯ সালে আরো একটি পরাজয়ের জন্য কংগ্রেসকে প্রস্তুত থাকা উচিত।"
বিজেপি আয়নাতে চেহারা দেখুক: সিদ্দিকুল্লাহ
কেন্দ্রীয় সরকারের চার বছরের পূর্তিতে পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার ও জনশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আয়নায় নিজেদের মুখ দেখে বলুক তারা কতখানি সফল বা ব্যর্থ। তিনি নোটবাতিল ও জিএসটিতে (পণ্য ও পরিসেবা কর) বহু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, "জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে, ট্রেনে খুন করছে, কাশ্মিরে যে ঘটনা হল, এগুলো প্রমাণ করে যে বিজেপি প্রভাবিত রাজ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। একইভাবে (বিজেপিশাসিত) অসমে ‘ডি’ ভোটারের নাম করে বাঙালি সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করে উদ্বাস্তু করে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখছে। সুপ্রিম কোর্ট বলছে, ‘ডি’ ভোটার বলে কিছু হয় না। যারা যুগযুগ ধরে আছে, তাদেরকে বলছে কাগজ দেখাও! বাপ চলে গেছে, দাদু চলে গেছে, তিন প্রজন্ম সে কোথায় কাগজ পাবে? এ হয়রানি কেন হচ্ছে? সেজন্য আমার মতে, তারা যেভাবে চার বছর পূর্তি পালন করছে তারা আয়নাতে নিজেদের চেহারা দেখুন তারা কতখানি সফল হয়েছেন, না বিফল হয়েছেন?"
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৬