মোদিকে 'হত্যার ষড়যন্ত্র' নিয়ে বাকযুদ্ধে বিজেপি-কংগ্রেস
https://parstoday.ir/bn/news/india-i58676-মোদিকে_'হত্যার_ষড়যন্ত্র'_নিয়ে_বাকযুদ্ধে_বিজেপি_কংগ্রেস
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মাওবাদীরা হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে বলে মহারাষ্ট্রের পুণে পুলিশ সম্প্রতি যে দাবি করেছে তা নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জুন ০৯, ২০১৮ ১৪:৪৪ Asia/Dhaka
  • ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মাওবাদীরা হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে বলে মহারাষ্ট্রের পুণে পুলিশ সম্প্রতি যে দাবি করেছে তা নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। 

গত (বৃহস্পতিবার) পুলিশের ওই দাবির কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক বিষয় যে, কিছু রাজনৈতিক দল এনডিএ বিরোধী অভিযানে মাওবাদীদের অস্ত্র হিসেবে দেখছে। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের ইতিহাস আমাদের এটাই শিক্ষা দেয় যে, কখনো বাঘের পিঠে আরোহী হওয়া উচিত নয়, তাহলে তার প্রথম শিকার সে নিজেই হবে। এটা খুব বিপজ্জনক প্রবণতা এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে তা বোঝা উচিত এবং এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়া উচিত।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি হত্যার ষড়যন্ত্র নিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। সভ্য সমাজে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। দেশবাসীর আশীর্বাদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছে।’

মুখতার আব্বাস নাকভি

হত্যার ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে কংগ্রেসের মুখপাত্র রনদীপ সূর্যেওয়ালা বলেছেন, ‘কংগ্রেসের চেয়ে এটা কেউ ভালো বুঝবে না যে তারা মহাত্মা গান্ধী, ইন্দিরাজি, রাজীবজি, বিয়ন্ত সিং,  শুক্লাজি, নন্দকুমার প্যাটেলসহ অন্য নেতাদের হারিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদ, মাওবাদ ও চরমপন্থা গ্রহণযোগ্য নয়। সময়ের দাবি হল, ভীমা কোরেগাঁওয়ের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।’

গত (বুধবার) মাওবাদী যোগসাজশের অভিযোগে পুণে পুলিশ দলিত সমাজকর্মী সুধীর ধাওয়ালে, আইনজীবী সুরেন্দ্র গাডলিং, সমাজকর্মী মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রনা উইলসন নামে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। দায়রা আদালতের কাছে পুলিশের দাবি, ওই পাঁচজনই গত জানুয়ারিতে ভীমা-কোরেগাঁওতে দলিত বিক্ষোভে যুক্ত ছিলেন। রানা উইলসন নামে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি সংক্রান্ত কমিটির সদস্যের বাড়ি থেকে মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র সম্বলিত চিঠি পাওয়া গেছে বলেও পুলিশের দাবি। কিন্তু অভিযুক্তদের আইনজীবীর পাল্টা দাবি, পুলিশ যে চিঠি দেখাচ্ছে, সেটি ভুয়ো। ধৃত ওই পাঁচজনকে ফাঁসানো হচ্ছে।

রামদাস আতাউলে

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের দলিত নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাউলে বলেছেন, ‘অম্বেদকরের অনুগামীরা মাওবাদী হতে পারেন না। ভীমা-কোরেগাঁও দলিত বিক্ষোভে কোনো মাওবাদী যুক্ত ছিল না। তবে দেশ বিরোধীরাই মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে পারে।’ তিনি গ্রেফতার হওয়া লোকদের সঙ্গে মাওবাদীদের সম্পর্ক না থাকার দাবি করে তাদের সাহায্য করবেন বলেও জানান।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই মন্তব্যকে ঢাল করে কংগ্রেস নেতা রণপদীপ সূর্যেওয়ালা বলেছেন, ‘বিজেপি’র দ্বিচারিতা প্রকাশ হয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, কে সত্যি কথা বলছেন, মোদির মন্ত্রী, না তদন্তকারী পুলিশ?’

রণপদীপ সূর্যেওয়ালা

কংগ্রেস নেতা শক্তি সিং গোহিল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও তদন্তকারী সংস্থার দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে স্পষ্ট করা উচিত সত্যিটা কী?’

এর আগে কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম বলেছিলেন, ‘যখনই মোদির জনপ্রিয়তা কমে যায়, তখনই হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়। ওই চিঠিকে মিথ্যে বলছি না। কিন্তু এই বিষয়টাও দেখা দরকার।’

আরজেডি নেতা শিবানন্দ তিওয়ারিও বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা দ্রুত নীচে নেমে যাচ্ছে। এজন্য মাওবাদী বিপদের খবর তৈরি করা হয়েছে যাতে সহানুভূতি ও ভোট পাওয়া যায়।’

পুলিশের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, মাওবাদীরা সেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু পুলিশের ওই দাবি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯