অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ, বিপুল ভোটে জয়ী মোদি সরকার
-
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেছে। গতকাল (শুক্রবার) দিনভর তীব্র বিতর্ক শেষে রাত ১১টায় ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১২৬ এবং বিপক্ষে ৩২৫ ভোট পড়ায় সরকারপক্ষ জয়ী হয়েছে।
প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চলা সংসদের অধিবেশনের পর লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন কণ্ঠভোটের আহ্বান জানান। ভোটে লোকসভার ৪৫১ জন এমপি অংশ নিলেও ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকেন শিবসেনা, টিআরএস ও বিজেডির এমপিরা।
এর আগে অনাস্থা বিতর্কে বিরোধী সদস্যরা সরকারের তুমুল সমালোচনায় সোচ্চার হন।
লোকসভার সদস্য ও মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তার ভাষণে বলেন, “সরকারকে বলতে হবে তারা ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ চায় নাকি ‘মুসলিম ও দলিত মুক্ত ভারত’ চায়? এই বিষয়টি স্পষ্ট হোক, কারণ যেভাবে দেশে গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে তাতে এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে।”
তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, সবচেয়ে গণপিটুনির ঘটনা ১৯৮৪ সালে হয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা কেবল ১৯৮৪ সালেই নয়, বরং বাবরী মসজিদের শাহাদত ও ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময়েও হয়েছে।”
ওয়াইসি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন তিনি মুসলিমদের হাতে কুরআন ও কম্পিউটার দেখতে চান। কিন্তু কী কারণে শিক্ষায় স্কলারশিপ দেয়ার জন্য বাজেটে কোনো বৃদ্ধি করা হয়নি?”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ১৪০০ কোটি টাকা বিদেশ সফরে খরচ করেছেন কিন্তু তার ফল কী হয়েছে? নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ কেন চীনের কোলে বসেছে?”
সংসদে কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ তার আবেগময় ভাষণে বলেন, “মুসলিমদের প্রতি সন্দেহ করা বন্ধ করুন। তারা অতটাই ভারতীয় যতটা আপনারা ভারতীয়। ১৯৪৭ সালে নৌশেরাতে যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ছিলেন মুসলিম। তিনি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার ওসমান। তিনি সীমান্তে মোতায়েন ছিলেন, এদেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। একথা ভুলে যাবেন না।”
কাশ্মির সমস্যা প্রসঙ্গে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, “নোট বাতিলের পরে কাশ্মিরে পাথর নিক্ষেপ বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা কী বন্ধ হয়েছে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানেন, এখন বন্দুক ও গ্রেনেডও চলে এসেছে। আমরা শান্তিতে ঘুমোতে পারছি না। আমরা চাই কাশ্মিরে শান্তি আসুক। ফারুক আবদুল্লাহ যা বলবে, আপনাদের তা ভালো লাগবে না। শান্তি আসবে না, যতক্ষণ পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা কোনো উপায় বের না করতে পারবো। আমি ঈমানদারির সঙ্গে বলছি, আমি ভারতীয়, পাকিস্তানি নই। আমি কখনো পাকিস্তানি ছিলাম না, বা কখনো পাকিস্তানি হবও না। আমার প্রাণ চলে যাবে তো এদেশেই যাবে। এদেশের মাটিতে প্রাণ যাবে। কিন্তু পথ বের করতে হবে। আমি আশা করেছিলাম, (সাবেক বিজেপি প্রধানমন্ত্রী) অটলবিহারী বাজপেয়ী যা করতে পারেননি, তা আমাদের প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) যার এত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে তিনি তা করবেন। আজও আশা আছে পথ বের হবে।”
তিনি বলেন, “হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে এই যে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, তাতে রাশিয়া আমাদের মারতে পারবে না, আমেরিকা মারতে পারবে না, কোনো দেশ আমাদের মারবে না, যদি হিন্দু ও মুসলিম একে অন্যকে আলিঙ্গন না করি, তাহলে আমরা দেশকে নিজেরাই শেষ করে ফেলব।”
এদিন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র এমপি অধ্যাপক সৌগত রায় তার ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের তুমুল সমালোচনা করে বলেন, “বিজেপি ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ চায়। কিন্তু আসলে তারা ‘মুসলিম মুক্ত ভারত’ চায়।” তারা ‘ভয় মুক্ত ভারত’ চান বলে সৌগত বাবু জানান।
সবশেষে দীর্ঘ জবাবি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের সমালোচনা গায়ে না মেখে, তাদের অভিযোগকে নস্যাৎ করাসহ সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আগামী ২০২৪ সালে বিরোধীরা পুনরায় যাতে অনাস্থা আনতে পারে সেজন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছেন বলে মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১