কাজে যোগ না দিলে কঠোর ব্যবস্থা: আন্দোলনরত ডাক্তারদের প্রতি মমতা
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিরাপত্তাসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ না দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) কোলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেয়ার আল্টিমেটাম দেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ওই হাসপাতালে গেলে জুনিয়র ডাক্তারদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তারা এসময় বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে সোচ্চার হন। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জুনিয়র ডাক্তারদের আজকের মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। দমকল যদি বলে আগুন নেভাব না, পুলিশ যদি বলে কাজ করব না, সেটা হতে পারে না।’
মমতা বলেন, ‘বিজেপির উসকানিতে এই উন্মাদনা চলছে। যারা আন্দোলন করছেন, তাদের আমরা সাহায্য করব। কিন্তু যারা কাজে যোগ দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এটা জরুরি পরিষেবা, এসেন্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাক্টে ধর্মঘট করা যায় না। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে।’ আমরা আইনি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেব বলেও তিনি মন্তব্য ক রেন।
গত (সোমবার) চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক রোগীর পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুই ইন্টার্ন পরিবহ মুখোপাধ্যায় ও যশ টেকওয়ানি আহত হন। এদিন ওই হাসপাতালে মুহাম্মাদ শাহিদ (৭৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোলযোগের সূত্রপাত। এরপরেই জুনিয়র ডাক্তাররা ধর্মঘটে নামলে রাজ্যে জরুরি চিকিৎসা পরিসেবা ভীষণভাবে ব্যাহত হয়।
এদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, হামলাকারীরা সেই সম্প্রদায়ভুক্ত, রাজ্যে যাদের ২৭ শতাংশ ভোট রয়েছে। হাসপাতালসহ রাজ্যে যে কোনও গোলযোগের নেপথ্যেই ওই বিশেষ সম্প্রদায় রয়েছে। দিলীপ বাবুর অভিযোগ, ‘তৃণমূল সরকার ওই সম্প্রদায়কে দিয়ে অপরাধ করাচ্ছে। তার বক্তব্য, ‘সমাজের সেই বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকেরা আক্রমণ করেছে, যারা ‘দুধেল গরু’। যাদের লাথি খেতে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) পছন্দ করেন।’ তার দাবি, যে বিশেষ সম্প্রদায়ের কথা তিনি বলছেন, তাদের ৪৭ শতাংশ সমাজবিরোধী।
দিলীপ বাবুর সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ও মন্তব্য করেন, ডাক্তার নিগ্রহের পিছনে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হাত রয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পাল্টা মন্তব্যে বলেন, অপরাধীর কোনো জাত-ধর্ম থাকে না। অপরাধী সমাজের শত্রু। ভাটপাড়ায় যে দু’জন নিহত হয়েছেন তাদের তো কোনো সম্প্রদায়ের লোক বলছি না আমরা। তিনি বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা না করে বাংলার কৃষ্টিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩