ভারতকে কাঁপিয়েও হেরে গেল আফগানিস্তান, শামির হ্যাটট্রিক
ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েও অল্পের জন্য হেরে গেলে আফগানিস্তান। আফগানদের ১১ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিনে চলে এসেছে ভারত। আর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হলো আফগানিস্তানের।
সাউদাম্পটনের হ্যাম্পশায়ার বোলে শনিবার টস জিতে এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলপতি বিরাট কোহলি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে টিম ইন্ডিয়া তোলে ২২৪ রান। জবাবে, ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে আফগানরা তোলে ২১৩ রান।
ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা। এই বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি হাঁকানো রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন আফগান স্পিনার মুজীব উর রহমান। আগের তিন ম্যাচে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যান স্পিন বলে আউট হননি। বোল্ড হওয়ার আগে রোহিত করেন মাত্র ১ রান। আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুলকে বিদায় করেন মোহাম্মদ নবী। ব্যক্তিগত ৩০ রানে সাজঘরের পথ ধরেন রাহুল।
স্পিনারদের সৌজন্যে লক্ষ্যটা ছিল সাধ্যের মধ্যেই। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা করতে পারল না আফগানিস্তান। উইকেটে সেট হয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি কোন ব্যাটসম্যান। মোহাম্মদ নবী ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিতে না পারায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আফগানিস্তান।
শেষ দিকে ম্যাচে অবশ্য দারুণ জমে গিয়েছিল ম্যাচে। শেষ তিন ওভারে রান দরকার ছিল ২৪। হাতে ছিল তিন উইকেট। যা সিঙ্গেল নিয়ে করলেও লক্ষ্যে পৌঁছানো ছিল সম্ভব। কিন্তু তা না করে বড় শট খেলতে গিয়ে উল্টো ১১ রান দূরে গুটিয়ে যায় দলটি। শেষ দিকে হ্যাটট্রিকই তুলে নেন মোহাম্মদ শামি। চেতন শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করলেন এ পেসার। সেই সঙ্গে ভারতের জয়ও নিশ্চিত করেন তিনি। নবী ৫৫ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন।
ভারতের পক্ষে ৪০ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নিয়েছেন শামি। তবে বোলিং ফিগারে দলের সেরা বোলার হয়েও ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিততে পারলেন না এই ফাস্ট বোলার। বরং আফগানদের ব্যাটিং ইনিংসের ৪৯তম ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়েই নায়ক বনে যান আরেক পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। হার্দিক পান্ডিয়া ও জুজবেন্দ্র চাহাল ২টি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটিং স্বর্গে এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত। উদ্দেশ্য বড় সংগ্রহ তুলে আফগানিস্তানকে চাপে রাখা। কিন্তু শুরুতেই মুজিব উর রহমানের ঘূর্ণিতে পড়েন তারা। দারুণ ছন্দে থাকা রোহিত শর্মাকে সরাসরি বোল্ড করে দেন তিনি। এরপর অবশ্য দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে ৫৭ রানের ভালো জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলে নেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল। এ জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নবী। তার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ধরা পড়েন রাহুল।
বিজয় শঙ্করকে নিয়ে এরপর দলের হাল ধরেন ধরেন কোহলি। ৫৮ রানের দারুণ একটি জুটিও গড়েন। বিজয়কে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে এ জুটি ভাঙেন রহমত শাহ। তবে ভারতীয় শিবিরে বড় আঘাতটা দেন নবী। দারুণ ছন্দে থাকা কোহলিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার বলে কাট করতে গিয়ে রহমত শাহরা হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন। এর আগে অবশ্য হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনের পর দ্বিতীয় ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে টানা তিন ম্যাচে ফিফটি তুললেন তিনি।
অধিনায়কের বিদায়ের পর কেদার যাদবকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ধোনি। গড়েন ৫৭ রানের জুটি। তবে রানের গতি বাড়াতে পারেননি তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেদম পিটুনি খাওয়া রশিদ ভাঙেন এ জুটি। ধোনিকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। এরপর বাকী ব্যাটসম্যানরা সে অর্থে দায়িত্ব নিতে না পারলে ৮ উইকেটে ২২৪ রান তুলে ইনিংস শেষ করে ভারত।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। ৬৩ বলে ৫টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৬৮ বলে ৫২ রানের কার্যকরী একটি ইনিংস খেলেন কেদার যাদব। এছাড়া রাহুল ৩০, বিজয় ২৯ ও ধোনি ২৮ রান করেন। আফগানিস্তানের পক্ষে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন নবী ও অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।