'কংগ্রেসের কাছ থেকে ‘লিখিত প্রস্তাব’ এলে জোটের কথা বিবেচনা করব'
-
এআইইউডিএফ প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল
অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এআইইউডিএফ প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল বলেছেন, 'কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছ থেকে ‘লিখিত প্রস্তাব’ এলে জোটের কথা বিবেচনা করব।' অসমের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ এআইইউডিএফ'র সঙ্গে জোট নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।
মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল বলেন, ‘গগৈ জোটের প্রস্তাব দেয়ার কে? উনি প্রস্তাব দিলেও কিছু আসে যায় না। কারণ, তিনি কংগ্রেসের কোনও পদে নেই। কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব এলে তবেই বিবেচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘অসমে কংগ্রেস ‘জিরো’, এআইইউডিএফ ‘হিরো’। গোটা ভারতেই কংগ্রেস ‘জিরো’। অসমে উপ-নির্বাচনে চারটি আসনে প্রার্থী দিয়ে সবকটিতেই তাঁদের ফলাফল শূন্য। আমরা একটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে একটিতেই জিতেছি। মানে, অসমে আমরা ‘হিরো’, কংগ্রেস ‘জিরো’। এখানে বিজেপি প্রথম হলে, আমরা দ্বিতীয়।
একসময় মাওলানা বদরউদ্দিন আজমলকে কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ ‘হু ইজ বদরউদ্দিন’ বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কংগ্রেসকে বার বার জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়ে এআইইউডিএফকে প্রত্যাখাত হতে হয়েছে। নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসকে সাহায্যও করেছেন। তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের কাছ থেকে মাওলানা আজমল যোগ্য সম্মান পাননি বলে অভিযোগ।
কিন্তু অসমে সাম্প্রতিক উপ-নির্বাচনে কংগ্রেস ব্যর্থ হওয়ার পরে গতকাল (শনিবার) কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগে এইআইইউডিএফ'র সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রে আমি অন্তরায় ছিলাম। কিন্তু এখন আর আমি অন্তরায় নই। সেজন্য জোটের পথ খোলা রয়েছে। এবং আমি এইআইইউডিএফের সঙ্গে জোট গঠনের ৯০ শতাংশ আশা দেখছি।’
এ প্রসঙ্গে মাওলানা আজমল বলেন, ‘আগে দুই/তিনবার কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এজন্য এবার জোটের জন্য লিখিত প্রস্তাব আসতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে আজ (রোববার) অসম রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও এআইইউডিএফে'র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘অসমে তরুণ গগৈ এখন যে জোটের কথা বলছেন আমি ব্যক্তিগতভাবে ও দলের পক্ষ থেকে ওনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই এজন্য যে, সঠিক কথাটা বুঝতে পেরেছেন, গ্রাউন্ড রিয়েলিটিটা অনুধাবন করতে পেরেছেন। কিন্তু উনি দেরি করেছেন। দেরি করেও যে উনি সঠিক কথাটা বুঝতে পেরেছেন এজন্য আমরা ওনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের কথা হল, ওনারা যে প্রস্তাব দিচ্ছেন, তরুণ গগৈ সাহেব ওনার পরিচয় হল উনি কংগ্রেসের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। দলের কোনও দায়িত্বভারে উনি নেই। দলের পক্ষ থেকে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসিয়ালি কোনও প্রস্তাব আসে আমরা সেটাকে বিবেচনা করব বলে গতকাল (শনিবার) আমাদের একটা মিটিং ছিল, সেখানে একথা আলোচনা হয়েছে।’
কংগ্রেস নেতৃত্ব সম্পর্কে মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি বলেন, ‘এখন ওনারা বুঝতে পারছেন অসমে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে এআইইউডিএফ-ই একমাত্র দল যাকে সাথে নিয়ে লড়াইটা করা যাবে। সেজন্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শুধু তরুণ গগৈ নন, ওনাদের রাজ্য সভাপতির পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমে বলা হয়েছে যে এআইইউডিএফের সঙ্গে আমরা আঁতাত করতে চাই। আমরা বলছি, আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যদি কোনও প্রস্তাব আসে আমরা সেটা বিবেচনা করব।’ বিগত দিনের চেয়ে আগামী নির্বাচনে আমাদের ফলাফল ভালো হবে বলেও এআইইউডিএফ নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি মন্তব্য করেন।
অসমে বিধানসভার সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বরপেটা জেলার জনিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এআইইউডিএফ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ৮১ হাজার ৭৮০ ভোট অর্থাৎ ৫৪.৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী এই কেন্দ্রে মাত্র ১৫ হাজার ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী সামসুল হক ভোট পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৩৯ ভোট।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।