মমতা ব্যানার্জি কাদের জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করছেন: প্রশ্ন সেলিমের
https://parstoday.ir/bn/news/india-i75527-মমতা_ব্যানার্জি_কাদের_জন্য_ডিটেনশন_ক্যাম্প_তৈরি_করছেন_প্রশ্ন_সেলিমের
সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মুখে বলছেন তিনি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তাহলে রাজ্যের মাটিতে কাদের জন্য ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ তৈরি করছেন? গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় বাঘাযতীনে এনআরসি-বিরোধী এক জনসভায় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ওই প্রশ্ন করেছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ২৮, ২০১৯ ১২:৫০ Asia/Dhaka
  • মুহাম্মদ সেলিম
    মুহাম্মদ সেলিম

সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মুখে বলছেন তিনি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তাহলে রাজ্যের মাটিতে কাদের জন্য ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ তৈরি করছেন? গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় বাঘাযতীনে এনআরসি-বিরোধী এক জনসভায় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ওই প্রশ্ন করেছেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট ও বনগাঁয় দু'টি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হবে বলে খবর ছড়িয়েছে। এরপর থেকে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস অবশ্য বলেছেন, বিদেশি বন্দিদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে এই ডিটেনশন ক্যাম্প। তিনি বলেন, বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত থাকার জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ২৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৪০ জনকে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১০ জন বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন। সেই বন্দিদের আলাদা রাখার জন্যই তৈরি করা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্প। মন্ত্রী এভাবে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিরোধীরা এনআরসিকে সামনে রেখে রাজ্যে সরকারকে চেপে ধরেছে। 

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার জনসভায় সিপিএম নেতা মুহাম্মাদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে টার্গেট করে বলেন, ‘অসমে থাকা লক্ষাধিক বাঙালির স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রের আবেদন অগ্রাহ্য কে করেছেন? বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে এর জবাব দিতে হবে। ২০০৫ সালে সংসদে মমতা ব্যানার্জি এনআরসি'র দাবি জানিয়ে ডেপুটি স্পিকারের মুখে কাগজ ছুঁড়ে মেরেছিলেন।’

মমতা বন্দ্যোপাধায়

কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মুহাম্মাদ সেলিম বলেন, ‘মোদি  সরকারের আমলে দেশজুড়ে অবাধে আর্থিক লুট চলছে। মানুষ যাতে এই লুটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার না হতে পারে সেজন্যই পরিকল্পিতভাবেই ‘বিভাজনের রাজনীতি’ করছে বিজেপি।’

তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে কৃষক ৬ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করছেন। আর দেশের বাজারে ১০০/১২০ টাকা  কেজি পেঁয়াজের দাম!

এদিনের ওই সমাবেশে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যাদবপুর কেন্দ্রের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী, সিপিএম নেত্রী চন্দনা ঘোষদস্তিদারসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরির বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা, বন্ধ কারখানা খোলার দাবি, বেকারদের চাকরি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য, বিজেপি, তৃণমূলের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি ইস্যুতে বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিএম নেতা খোকন ঘোষ দস্তিদার।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।