ভারতে নির্বাচন:
পশ্চিমবঙ্গে ফের ক্ষমতায় আসছেন মমতা, ব্যাপকভাবে এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থীরা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ বিকেল ৩ টা পর্যন্ত বেসরকারিভাবে নির্বাচনী ফলের প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে ২৯২ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল প্রার্থীরা ২০৬ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি মাত্র ৮৩ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত মোর্চা ২ টি ও অন্যরা ১ টি আসনে এগিয়ে আছে। এরফলে বিজেপির বাংলা জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার মোট আসন ২৯৪। ২ টি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট হয় নি। সরকারিভাবে অবশ্য এখনও ফল প্রকাশ হয় নি। বেসরকারি ফলাফলের প্রবণতায় রাজ্যে তৃণমূল প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার সুবাদে এ নিয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (দিদি) তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও’ ব্রায়েন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাম না করে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘মোদী+ অমিত শাহ+ বিজেপি+ সিবিআই+ ইডি+ নির্বাচন কমিশন+ গদি মিডিয়া+ বিশ্বাসঘাতক এই সবকিছু দিদি+ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়+ তৃণমূল কর্মী এবং বাংলার কাছে হেরে গেল।’
উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বলেছেন, ‘বাংলার সচেতন নাগরিকরা বিজেপি’র ‘ঘৃণার রাজনীতি’কে হারিয়েছেন। মানুষের সেবায় ব্রতী পরিশ্রমী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের নেতাদের শুভেচ্ছা।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন নারীকে বিজেপি যেভাবে ‘দিদি ও দিদি’ বলে কটাক্ষ করছিল, তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার জনগণ।’ অখিলেশ যাদব হ্যাশট্যাগে লিখেছেন ‘দিদি জিও দিদি’। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই জয়ের জন্য অভিনন্দন। কী অসাধারণ লড়াই! পশ্চিমবঙ্গের মানুষকেও আমার শুভেচ্ছা।’
অন্যদিকে, বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে। ফলাফল সম্বন্ধে জানতে চেয়েছেন তিনি। আমি আশ্চর্য হচ্ছি দেখে যে কীভাবে বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহা হারতে পারেন! ‘দিদি’র পায়ে আঘাত, বহিরাগত ইস্যু, আবেগ ইস্যু হতে পারে এই ফলাফলের কারণ।’
এবারের নির্বাচনে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের নেতারা অত্যন্ত জোরের সঙ্গে দাবি করেছিলেন, বিজেপি এবার দু’শোর বেশি আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে এবং তারা ‘সোনার বাংলা’ গড়বে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে রাজ্য কাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের সমস্ত প্রচারণা ও আবেগ কার্যত চুপসে গেছে। শুনশান হয়ে গেছে রাজ্য বিজেপি’র সদর দফতর। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা রাজ্যজুড়ে বিভিন্নস্থানে জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছেন। চলছে সবুজ রঙের আবির মেখে উদ্দাম নাচ ও পটকা ফাটানোর হুল্লোড়।
একইসঙ্গে অসমে ১২৬ আসনের মধ্যে বিজেপি ৭৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস ৪৮ এবং অন্যরা ১ টি আসনে এগিয়ে আছেন। কেরালায় ১৪০ আসনের মধ্যে বামপন্থি এলডিএফ জোট ৯৩, ইউডিএফ ৪৫, বিজেপি ১, অন্যরা ১ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ুতে এডিএমকে ৯০, ডিএমকে ১৪৩ এবং অন্যরা ১ আসনে এগিয়ে আছেন। পুদুচেরিতে ৩০ আসনের মধ্যে এনডিএ ১১, ইউপিএ ৬ আসনে এগিয়ে রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এনএম/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।