আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বিরোধ বাধানোর চেষ্টা করছে ব্রিটেন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i10894-আরব_দেশগুলোর_সঙ্গে_ইরানের_বিরোধ_বাধানোর_চেষ্টা_করছে_ব্রিটেন
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ দেশটি নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি আরবি ভাষায় সম্প্রচারিত স্কাই নিউজ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুন ০১, ২০১৬ ১৩:৪৫ Asia/Dhaka

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ দেশটি নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি আরবি ভাষায় সম্প্রচারিত স্কাই নিউজ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন।

 

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ইরানের কথিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত আরব দেশগুলোর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা হলেও তার ভাষায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যাপারে ইরানের হস্তক্ষেপ এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি ইরানের সমর্থনের ব্যাপারে নীরব থাকব না। তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে তেহরান।

 

কি ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণে ইরানের কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আনা যাবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আশা করি ইরানের ভেতর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে দেশটির সরকারকে বাধ্য করা যাবে। তবে তিনি এও বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা লক্ষ্য করেছি বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করেও ইরানকে বাধ্য করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান যদি নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করা অব্যাহত রাখে তাহলে আমরা দেশটির ওপর চাপ বজায় রাখব।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরণের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ব্রিটেন সরকার আসলে ভেতর থেকে ইরানের ইসলামী সরকার ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অবশ্য অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ইরানকে অস্থিতিশীল করতে ব্রিটেন বহু ষড়যন্ত্র করেছে। যেমন ১৯৫৩ সালে তৎকালীন জনপ্রিয় সরকারকে উৎখাত করার পেছনে ব্রিটেনের হাত ছিল। আবার ২০০৯ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ইরানে ফেতনা সৃষ্টিতে ব্রিটেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল। এ দু’টি ঘটনা থেকেই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যে অরাজকতা শুরু হয়েছে এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যে সীমান্ত বিরোধ বজায় রয়েছে তা সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ষড়যন্ত্রেরই ফসল। ব্রিটেন তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। প্রথমত, লন্ডন চায় আরব দেশগুলোকে সব ক্ষেত্রে ব্রিটেনের ওপর নির্ভরশীল করে রাখতে। দ্বিতীয়ত, সম্পদশালী আরব দেশগুলোর কাছে কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করে নিজেদের বাজেট ঘাটতি মেটানো। তৃতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করা যাতে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক উপনিবেশবাদী শক্তি ব্রিটেন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে নিজ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকা ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোও মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যামন্ড ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রকৃতপক্ষে আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে লন্ডনের হস্তক্ষেপের বিষয়টিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। ব্রিটেন আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যা কিনা সাবেক উপনিবেশিক নীতিরই অনুসরণ মাত্র। #

 

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১