অলৌকিক এক ইমাম ও বিপ্লবী নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
আজ পালিত হয়েছে মহান সংস্কারক ও হাজার বছরের সেরা বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র)’র ইন্তেকালের ২৭ তম বার্ষিকী।
আজ এ উপলক্ষে অন্তত দশ লাখ ইরানি বিপ্লবী নাগরিক তেহরানের অদূরে মরহুমের মাজার-প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তাদের অনেকেই এসেছেন দূরদূরান্তের নানা প্রদেশ ও জেলা থেকে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ও ইসলাম-ভিত্তিক জন-শাসন-ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা এই মহান ইমামের মৃত্যু-বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের মত আজও ইরানের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত হন তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে। এ সমাবেশে যোগ দেন নানা দেশের অনেক চিন্তাবিদ, আলেম ও সমাজ-কর্মী এবং তেহরানস্থ বিদেশী কূটনৈতিকরা।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আজ মরহুম ইমাম খোমেনীর মাজার-প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশাল জন-সমাবেশে বলেছেন, ‘ইমাম খোমেনী (র) খোদায়ী লক্ষ্য ও তা বাস্তবায়নের পথ এবং জনগণের প্রতি ছিলেন নিবেদিত-প্রাণ। এই মহান ইমাম ইরানের জনগণকে নানা ধরনের কঠিন সংকটের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করেছেন ও তাদেরকে আল্লাহর ধর্মের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে পরিচালিত করেছেন।’
তিনি আরও বলেছেন, ইমাম খোমেনীর ইন্তেকালের পর ইরানিরা যেসব ক্ষেত্রে বিপ্লবী ভূমিকা রেখেছে সেইসব ক্ষেত্রেই অগ্রগতি হয়েছে, আর যেসব ক্ষেত্রে বিপ্লবী ও জিহাদি ভূমিকায় শৈথিল্য দেখিয়েছে সেসব ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে গেছেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতা হারানো বলতে কেবল এটা বোঝায় না যে বাইরের কোনো সরকার ইরানকে শাসন করছে, ইসলামী ইরান যদি নতজানু হয় এবং শত্রুদের খেলার শরিক হয় তাতেও আর রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকে না। কারণ, এর অর্থ শত্রুদের চক্রান্তের ষোলকলাই পূর্ণ হওয়া।
এর আগে গতরাতে (বৃহস্পতিবার) ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি ইমাম খোমেনী (র)’র মাজার প্রাঙ্গণে দেয়া ভাষণে ইসলামী বিপ্লব, ইসলামী জন-শাসন-ব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় আইনবিদের নেতৃত্ব তথা বেলায়েতে ফকিহ-ব্যবস্থাকে এই মহান ইমামের তিনটি বড় অবদান বলে মন্তব্য করেন।
ইমাম খোমেনীর ইসলামী জন-শাসন-ব্যবস্থা বিশ্বের সব দেশ ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য সফল আদর্শ বা মডেল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
মরহুম ইমাম খোমেনীর নাতি সাইয়্যেদ হাসান খোমেনীও ওই মহা-সমাবেশে বলেছেন, ইমাম খোমেনীর ইসলামী বিপ্লব সম্মান, ভালবাসা ও ঐক্য উপহার দিয়েছে।
অন্য এক সমাবেশে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, ইমাম খোমেনী (র) ছিলেন, ইমাম মাহদি (আ)’র অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর থেকে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে সার্বিক যোগ্যতা ও গুণের অধিকারী শ্রেষ্ঠ আলেম। তিনি ছিলেন একাধারে আলেম, ফকিহ, দার্শনিক ও আরেফ।
সর্বোচ্চ খোদাভীতি ও খোদা-নির্ভরতার কারণে তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পরাশক্তিগুলোকে উপেক্ষা করে ইসলামের পতাকা উঁচু করেছেন।
আধুনিক যুগে ইরানের ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের প্রভাবে ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধিসহ বিশ্বব্যাপী ইসলামী জাগরণ ও ইসলামী মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর মত বিষয়গুলো ইমাম খোমেনী(র)র কাছে চির-ঋণী। #
পার্সটুডে/মু. আ. হুসাইন/৩