ইরান ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে আঞ্চলিক সরকারগুলো
যেসব কারণে সিরিয়ায় রায়িসির সফরে পাশ্চাত্য অপমান বোধ করেছে!
সম্প্রতি সিরিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি। এই সফরের গুরুত্বসহ নানা দিক সম্পর্কে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সংবাদ মহলে সেসবের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, সিরিয়ায় রায়িসি'র এই সফর গোটা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল অবমাননাকর বিষয়। তাই মার্কিন কর্মকর্তারা এই সফরের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়াও এই সফর তেহরান-দামেস্ক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। তেহরান ও দামেস্কের সম্পর্ক এমনিতে খুব গভীর ছিল। কিন্তু এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সেই গভীরতাকে করেছে আরও গভীর ও নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে রায়িসিকে সম্বর্ধনা জানাতে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে উৎফুল্ল জনগণের সারিবদ্ধ উপস্থিতিও ছিল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। এ থেকে মূলত সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ইরানের ইসলামী বিপ্লবী জাতি ও সিরিয়ার দুর্দিনের বন্ধু ইরানি জাতির প্রতি সিরিয়দের গভীর ভালোবাসাই ফুটে উঠেছে।
মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের আজ্ঞাবহ আঞ্চলিক সরকারগুলো কট্টর ইসরাইল-বিরোধী বা ইরান-কেন্দ্রীক ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক হিসেবে বাশার আসাদ সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রধানত ইরান ও হিজবুল্লাহ'র প্রচেষ্টায় এবং স্বেচ্ছাসেবী নানা গ্রুপের সেনা ও সিরিয়ার সরকারি সেনাদের প্রতিরোধের মুখে ওই নীল-নকশা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ইসরাইলি ও মার্কিন আধিপত্য জোরদারের ষড়যন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এখন এ অঞ্চলে মার্কিন আজ্ঞাবহ সব সরকারই এটা বুঝতে পেরেছে যে আসাদ সরকারসহ এ অঞ্চলে ইসরাইলি ও মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তিগুলোর টিকে থাকা তাদের নিরাপত্তার জন্যও অনেক জরুরি। ফলে এখন ইরান ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছে আঞ্চলিক সরকারগুলো।
সিরিয়ায় ইরানি প্রেসিডেন্টের সফরের ফলে এ দুই দেশেরই অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বিশেষ করে সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। ইসরাইলি বিশ্লেষকরাও এ বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের কারণে ইরাক ও সিরিয়ায় পশ্চিমা মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পরাজয় গোটা পশ্চিম এশিয়ায় প্রতিরোধ-অক্ষকে জোরদার করেছে। ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইয়েমেনের প্রতিরোধ-আন্দোলনও এ অক্ষেরই অংশ।
ইরানের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সরকারের সাত ট্রিলিয়ন তথা সাত হাজার বিলিয়ন বা সাত লক্ষ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ব্যর্থ হয়েছে ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও রাতের অন্ধকারে ইরাক সফর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন। আসলে ইরানের নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ অক্ষ দিনকে দিন মার্কিন-ইসরাইলি ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য আতঙ্ক বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জালিম শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের নীতি যে সুফল দিচ্ছে তেহরান-দামেস্ক সম্পর্কের বহুমুখী বিস্তৃতি থেকে তা আবারও স্পষ্ট হল। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।