ইরানকে কোণঠাসা করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব লীগের ষড়যন্ত্র
আরব লীগের নতুন মহাসচিব আহমদ আবুল গাইত আল আরাবিয়া টিভি চ্যানেলকে দেয়া প্রথম সাক্ষাতকারে মৌরিতানিয়ায় অনুষ্ঠেয় এ জোটের বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বলেছেন, তার ভাষায় ইরানের হুমকির ব্যাপারে কথাবার্তা হবে। এ ছাড়া বাহরাইন সংকট এবং সেখানে ইরানের কথিত হস্তক্ষেপের বিষয়েও আরব লীগের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।
আরব লীগের মহাসচিব আরো বলেছেন, যারা তার বক্তব্যের সমালোচনা করবে তাদেরকে জোটের প্রতি সমালোচক হিসেবেই ধরা হবে। তিনি নিজেকে আরব দেশগুলোর মুখপাত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আজ জুবায়ের ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি রিয়াদের প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য দাবি করেছেন, ইরান সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার পাশাপাশি সিরিয়া, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যদিও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ থেকে বোঝা যায়, অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়ে ইরান বিরোধী আবহ তৈরির চেষ্টা চলছে যার লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানকে কোণঠাসা করে রাখা। তারা ইরান বিরোধী অপপ্রচারকে দু’দিক থেকে মূল্যায়ন করেছেন। প্রথমত, পরমাণু সমঝোতার পর আরব রাজা বাদশাহরা এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের প্রতিবেদনেও আরবদের কথারই প্রতিধ্বনি হয়েছে। বানি কি মুনও তার প্রতিবেদনের একটি অংশে দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন। তবে ইরান বান কি মুনের এ ধরণের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আমেরিকার চাপের মুখে ইরান বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের একই সময়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরব লীগের মহাসচিবের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, এ অঞ্চলের ঘটনাবলী থেকে ইরানকে দূরে রাখা যাতে ইরান কোনো গঠনমূলক কাজ করতে না পারে। এ সব থেকে ইরান বিরোধী অপপ্রচারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা যায়। এর আগে তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে একে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু পরমাণু সমঝোতা হওয়ার পর তাদের সে চেষ্টা অনেকটাই ব্যর্থ হয়ে গেছে। এখন তারা নতুন করে ইরান বিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে এবং বলছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব এ অঞ্চলে তাদের দীর্ঘ মেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ঠিক এ কারণেই তারা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু করেছে। এ ছাড়া, ইরাক, সিরিয়া, বাহরাইন ও লেবাননেও হস্তক্ষেপ করে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে সৌদি আরব এবং এ দেশগুলোর পরিস্থিতিকে তারা আরো জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরব স্বয়ং ইয়েমেনে হামলা চালানোর পাশাপাশি দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। বাহরাইনেও সেনা পাঠিয়ে সেদেশের আন্দোলনকারী জনতার ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরও সৌদি আরব এ অঞ্চলে তার রাজনৈতিক পরাজয়ের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে। এ কারণে তারা ইরানকে মোকাবেলার জন্য এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরো তীব্রতর করার জন্য আরব লীগকে ব্যবহার করছে। #
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/২০