হত্যা, অগ্নিসংযোগের রেটও নির্ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
-
আজিজ নাসিরজাদেহ
পার্সটুডে: ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি আমেরিকা ও কিছু পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চলমান কর্মকাণ্ড প্রকাশ করেছেন, যা সম্প্রতি ইরানে সংঘটিত ঘটনাগুলোর সাথে সম্পর্কিত।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের সামরিক কূটনীতিকদের সাথে আজ (বুধবার) এক বৈঠকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছেন, “আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, জিওপলিটিক্যাল পরিবর্তনের একটি নতুন যুগ চলছে। একধরনের একক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে বহুপাক্ষিকতার যুগের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং আমেরিকার আধিপত্যের অবসান ঘটছে।”
আজিজ নাসিরজাদেহ আরও জানিয়েছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল: ইরানে প্রতিটি ব্যক্তিকে হত্যার জন্য ৫০০ মিলিয়ন তুমান, প্রতিটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের জন্য ২০০ মিলিয়ন, প্রতিটি পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালানোর জন্য ৮০ মিলিয়ন এবং যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কার্যকলাপের জন্য ১৫ মিলিয়ন তুমান প্রদান করা হবে।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন: "একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে যিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ৯০০ মিলিয়ন তুমান পেয়েছিলেন। এই দাঙ্গার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল- নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছুরিকাঘাত, শ্বাসরোধ ও ৬০% এর কাছাকাছি মাথায় কাছ থেকে গুলি করে হত্যার শিকার হয়েছে।"
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিকতা, ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কট্টর বিরোধী।
আজিজ নাসিরজাদেহ বলেন, ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের কিছু বাজারী ব্যবসায়ীদের সমাবেশ দিয়ে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকার ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংস্থার বৈঠকের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে এবং ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শান্তি অব্যাহত থাকে। কিন্তু বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হুমিক কারণে, ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভগুলো সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত হয়। অবশেষে ১২ জানুয়ারি জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে অশান্তি প্রায় দূর হয়ে যায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইসরায়েল ও আমেরিকা বিশৃঙ্খলা, ধর্মঘট ও বিক্ষোভের মডেল প্রয়োগ করে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করেছে এবং আক্রমণ চালিয়েছে। শত্রুরা মনে করে, দায়েশি (আইএস) মতবাদ ও সন্ত্রাস প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব; তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
আজিজ নাসিরজাদেহ বলেন, ইসলামী বিপ্লবের নেতা কর্তৃক পরিচালিত ইরান পশ্চিম এশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি প্রধান শক্তি। ধর্ম ও সংস্কৃতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতির সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং শত্রুকে অস্তিত্ব দেখানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৫