নাসিরজাদেহ ও হাসানভের কারিগরি বৈঠক
আজারবাইজানকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেব না: আলিয়েভের অঙ্গীকার
-
ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ
পার্স-টুডে: আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে একটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাকু কখনোই তার ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।
শুক্রবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহর সম্মানে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় এই উচ্চপর্যায়ের আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ। এ বিষয়টিকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় ও ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলিয়েভ ইরান–আজারবাইজান সম্পর্ককে “উষ্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ” বলে অভিহিত করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা সবসময়ই আজারবাইজানের আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি কেন্দ্রীয় বিষয়।
বিদেশি মদদপুষ্ট বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টার সরাসরি জবাব হিসেবে বিবেচিত এক বক্তব্যে আলিয়েভ ঘোষণা করেন,“আমাদের আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যেই আজারবাইজান তার ভূখণ্ড থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আসতে দেবে না।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অঙ্গীকার দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য বহিরাঞ্চলীয় শক্তিগুলোর যেকোনো অপচেষ্টাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিবে।
আলিয়েভ বলেন, তার প্রশাসন ইরানের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রেক্ষাপটে দুই রাজধানীকে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি মিশনের অংশ হিসেবে আজারবাইজান সফরে থাকা জেনারেল নাসিরজাদেহ ককেশাসে শান্তি সংহত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান এবং এটিকে আঞ্চলিক কূটনীতির একটি বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা অবশ্যই এখানকার জনগণের মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে এবং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বহিরাঞ্চলীয় শক্তি”র হস্তক্ষেপ স্বভাবতই অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় শান্তি বিনষ্ট করে।
নাসিরজাদেহ এ সময় তাঁর আজারবাইজানি সমকক্ষ কর্নেল জেনারেল জাকির হাসানভের সঙ্গে বিস্তৃত কারিগরি আলোচনা করেন।
দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগের সম্ভাব্য পথগুলো নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
এই সফর তেহরান–বাকু সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের প্রতিফলন, যা ইঙ্গিত দেয়—উভয় দেশ অতীতের টানাপোড়েন পেরিয়ে এখন সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং দক্ষিণ ককেশাসে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের অভিন্ন অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বাকু সফর করে প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর সোমবার তিনি আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
এই বৈঠক ও আলোচনাগুলোতে আজারবাইজান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়ে অঙ্গীকার করে যে, তার ভূখণ্ড ও আকাশসীমা কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করা হবে না।
এই কূটনৈতিক উষ্ণতা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের ফল, যার মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল ও নভেম্বর মাসে আজারবাইজানে তাঁর দুটি সফর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়ের এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে মোড় নিয়েছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/০৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।