সিএনএস'র জরিপ: ট্রাম্পের বাড়াবাড়িতে মার্কিন নাগরিকেরা ক্লান্ত
-
ট্রাম্প
পার্সটুডে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সিএনএন বিভিন্ন জরিপ বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই সরকারের গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করেছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে- সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপগুলো থেকে এটা স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরের শাসনামলে আমেরিকার জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শুধু তার অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতিতে অসন্তুষ্টই নয়, বরং তারা মনে করে প্রেসিডেন্ট বহু ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। এসব তথ্য হোয়াইট হাউসের বর্তমান অবস্থা ও আমেরিকার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তুলে ধরে।
জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টায় ট্রাম্প এমন বিষয়গুলোতে হাত দিয়েছেন যেগুলো নিয়ে ঐকমত্য নেই এবং যা তীব্রভাবে সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব—যার বিরোধিতা করেছেন ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। এই বিরোধিতা কেবল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রিপাবলিকানদের ৪৭ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের ৮২ শতাংশও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) সংস্থার কার্যক্রমও ট্রাম্প সরকারের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে। মিনিয়াপোলিসে এই সংস্থার এক কর্মকর্তার হাতে এক মার্কিন নারীর মৃত্যুর পর জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ শতাংশ মনে করেন, প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার ছিল অনুপযুক্ত এবং ৫১ শতাংশ এই ঘটনাকে “ICE-এর কাঠামোগত সমস্যার” লক্ষণ হিসেবে দেখেছেন। অধিকাংশ উত্তরদাতা আরও বলেছেন, এই সংস্থার পদক্ষেপ শহরগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে বরং সেগুলোকে আরও অনিরাপদ করেছে।
সিএনএনের ভাষায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর সম্পর্কে জনমতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যদি একটি শব্দে করতে হয়, তবে তা হবে বাড়াবাড়ি। অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা অতিক্রম করেছেন; যেমন:
- প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার ব্যবহারে ৫৮ শতাংশ
- অন্যান্য দেশের ওপর চাপ প্রয়োগে ৫৯ শতাংশ
- লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনী ব্যবহারে ৫৫ শতাংশ
- ফেডারেল কর্মসূচি হ্রাসে ৫৭ শতাংশ
- স্মিথসোনিয়ান ও কেনেডি সেন্টারের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপে ৬২ শতাংশ
এই তথ্যগুলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়কার পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন অনেক ভোটার ধারাবাহিক বিতর্ক ও একের পর এক সংকটে ক্লান্ত হয়ে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এখন আবারও সেই রাজনৈতিক ক্লান্তির অনুভূতি ফিরে আসছে বলে মনে হচ্ছে।#
পার্সটুডে/এসএ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন