অসম যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করে আমরা শত্রুকে সফলভাবে পিছু হটিয়ে দিয়েছি: কলিবফ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i158602-অসম_যুদ্ধ_কৌশল_প্রয়োগ_করে_আমরা_শত্রুকে_সফলভাবে_পিছু_হটিয়ে_দিয়েছি_কলিবফ
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন,ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তার উন্নত আর্থিক ও বস্তুগত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অপ্রতিসম যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করে শত্রুকে সফলভাবে পিছু হটিয়েছে।
(last modified 2026-04-19T11:55:09+00:00 )
এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৭:০০ Asia/Dhaka
  • ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ
    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন,ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তার উন্নত আর্থিক ও বস্তুগত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অপ্রতিসম যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করে শত্রুকে সফলভাবে পিছু হটিয়েছে।

শনিবার রাতে প্রচারিত একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কলিবফ এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,"আমরা এমনভাবে একটি অসম যুদ্ধ লড়েছি যে আমরা শত্রুকে পিছু হটিয়ে দিয়েছি।"এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা এবং প্রধান আলোচকের মতে,শত্রুর দুর্বলতা সম্পদে নয়, বরং কৌশলে ছিল।

কালিবফ বলেন, "শত্রুর কাছে অর্থ ও সম্পদ ছিল,কিন্তু পরিকল্পনার দিক থেকে তারা সঠিকভাবে কাজ করেনি। তারা কৌশলগত ভুল করে। তারা আমাদের জনগণের বিষয়ে ভুল হিসাব করে,ঠিক যেমন তারা তাদের নিজেদের সামরিক পরিকল্পনায় ভুল করে।"

কলিবফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক শক্তি,অভিজ্ঞতা এবং সম্পদ রয়েছে,কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধে একটি অপ্রতিসম যুদ্ধ লড়ে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে শত্রুকে পিছু হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে। তিনি বলেন, "সামরিক শক্তিতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নই।" "এটা স্পষ্ট যে তাদের কাছে বেশি অর্থ, সরঞ্জাম ও সম্পদ আছে, এবং যেহেতু তারা বিশ্বজুড়ে প্রচুর আগ্রাসন চালিয়েছে, তাই তাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের চেয়ে বেশি।" তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বস্তুগত সুবিধা বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।

সংসদ স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, "নিঃসন্দেহে, সরঞ্জাম,সম্পদ এবং অর্থ যুদ্ধ ও বিজয়ে কার্যকর, কিন্তু সবসময় এমনটা হয় না"।  তিনি ইরানের সাফল্যের কারণ হিসেবে কৌশলগত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। "আমরা এমনভাবে একটি অসম যুদ্ধ লড়েছি যে আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আমরা শত্রুকে পিছু হটিয়ে দিয়েছি।"

"শত্রুর কাছে অর্থ ও সম্পদ ছিল, কিন্তু পরিকল্পনার দিক থেকে তারা সঠিকভাবে কাজ করেনি।" তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এর আগে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’-কে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনাও করেন। মার্কিন সরকার দাবি করে যে 'আমেরিকা ফার্স্ট' তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাস্তবে তারা দেখিয়েছে যে তাদের কাছে ইসরায়েলই প্রথম, কারণ তারা ইসরায়েলের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি মেনে নেওয়ায় ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে। কলিবফ বলেন, "জাতির অধিকার সুসংহত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে। নিশ্চিন্ত থাকুন, কূটনীতির ক্ষেত্রে কোনো আত্মসমর্পণ হবে না।"

তিনি বলেন, শত্রু যখন সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানি জাতির ওপর তাদের দাবি চাপিয়ে দিতে পারল না, তাদের চরমপত্র দিয়ে আমাদের প্রভাবিত করতে পারল না এবং দেখল যে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে, তখন তারা বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে। অবশ্যই,যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের দিনের চেয়েও আজ আমরা আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন কলিবফ।#

পার্সটুডে/এমবিএ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন