মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি: ইরানে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইরানে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর হয়ে কাজ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) সকালে ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে ইয়াকুব কারিমপুর ও নাসের বেকরজাদেহ'র ফাঁসি কার্যকর করা হয়। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তাদের সাজা বহাল রাখার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে কারিমপুর নিয়মিতভাবে মোসাদের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি সংবেদনশীল বিভিন্ন স্থাপনা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে গোপন তথ্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করতেন এবং এর বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ করতেন।
এছাড়া, মোসাদ কর্মকর্তার কাছ থেকে শব্দ বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি একাধিক বোমা তৈরি ও নির্দিষ্ট স্থানে বিস্ফোরণ ঘটান। পরে এসব বিস্ফোরণের ছবি ও ভিডিও তিনি তার হ্যান্ডলারের কাছে পাঠান।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এসব ভিডিও পরে ইসরায়েল-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়, যাতে ইরানকে অস্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরা যায়।
কারিমপুর সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার ছবি তোলেন এবং কারাজ ও মাশহাদ শহরে এটিএমে আগুন দেওয়ার মতো নাশকতামূলক কাজ করতে কয়েকজনকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন।
এই অপরাধের জন্য তাকে ইসলামি বিপ্লবী আদালত “মোহারেবেহ” (সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ) এবং ইসরায়েলি শাসনের সঙ্গে সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে “পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি” করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
অন্যদিকে, বেকরজাদেহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সেসবের ছবি ও তথ্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহ করেন।
তিনি ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানের ছবি ও তথ্য দেন। এছাড়া কিছু সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় আলেম এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করেন।
গত বছরের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা শুরুর পর থেকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী শত্রুপক্ষের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেয়ি বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় দেরি এড়াতে হবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২