কলিবফ: আশুরার চেতনা ও শহীদদের পথেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল থাকবে ইরানি জাতি
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ পবিত্র মুহাররম মাসের সূচনা উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, বীরত্ব, আত্মোৎসর্গ এবং স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক।
তিনি বলেন, মুহাররম মাস কেবল শোকের সময় নয়; এটি অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার এক ঐতিহাসিক শিক্ষা। আশুরার মহাবিপ্লব আমাদের শেখায়—অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানই প্রকৃত মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
বার্তায় তিনি আরও বলেন, এ বছর মুহাররম এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানি জনগণ কঠিন, সংবেদনশীল কিন্তু গৌরবময় সময় পার করেছে। তাঁর মতে, এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণ আবারও আশুরার সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ অতীতে যেমন “আরোপিত যুদ্ধ” ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, ভবিষ্যতেও তেমনি তারা তাদের অবস্থান থেকে পিছপা হবে না। তাঁর মতে, ইরানি জাতির শক্তির মূল ভিত্তি হলো আশুরার সংস্কৃতি ও শহীদদের পথ।
কলিবফ শহীদদের স্মরণ করে বলেন, ইরানের শহীদরা কেবল যোদ্ধা ছিলেন না; তারা দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইসলামী সংস্কৃতিতে শাহাদাতকে তিনি “পরাজয় নয়, বরং চিরস্থায়ী আদর্শের সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) যেমন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন, তেমনি ইরানি জাতিও ইতিহাস জুড়ে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। বার্তায় তিনি জনগণের ঐক্য, ঈমান এবং দৃঢ়তাকে ইরানের শক্তির মূল উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই শক্তির ওপর ভর করেই দেশটি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল হবে।
শেষে তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ইরানি জাতি তাদের ত্যাগ ও রক্তকে কখনো ভুলবে না এবং ন্যায়বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধের পথ থেকে সরে আসবে না।
পার্সটুডে/এমবিএ/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।