ইরানের ‘নাসর ২ ’ অভিযান : ক্ষেপণাস্ত্রে কেঁপে উঠল বাহরাইন-কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161294-ইরানের_নাসর_২_’_অভিযান_ক্ষেপণাস্ত্রে_কেঁপে_উঠল_বাহরাইন_কুয়েতে_মার্কিন_ঘাঁটি
পার্সটুডে – দক্ষিণ ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই মঙ্গলবার ভোররাতে ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী বা আইআরজিসি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়।
(last modified 2026-07-14T06:55:38+00:00 )
জুলাই ১৪, ২০২৬ ১২:১৭ Asia/Dhaka
  • ইরানের ‘নাসর ২ ’ অভিযান : ক্ষেপণাস্ত্রে কেঁপে উঠল বাহরাইন-কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি

পার্সটুডে – দক্ষিণ ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই মঙ্গলবার ভোররাতে ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী বা আইআরজিসি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়।

পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরনা সংবাদ সংস্থা সূত্রে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার ভোররাতে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একাধিক অস্ত্রাগার, একটি স্যাটেলাইট টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র এবং মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন—এ সবকিছুই অপারেশন ‘নাসর ২’-এর দ্বিতীয় পর্বের আওতায় ধ্বংস করা হয়েছে।

অপারেশন নসর ২-এর সম্পূর্ণ বিবরণী নিম্নরূপ:

“ইরানের মহান, সাহসী ও সর্বদা জাগ্রত জাতি—শিশুহত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনী সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালীতে তাদের ব্যর্থতার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা চৌকি ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

ঐ আগ্রাসনের জবাবে প্রথম পর্যায়ে আইআরজিসির নৌবাহিনীর অকুতোভয় যোদ্ধারা ‘নাসর ২’ অভিযানের দ্বিতীয় পর্বে ‘ইয়া লিসারাতিল হুসাইন’—এই পবিত্র শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহরাইনের ‘জুফায়ার’ ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অস্ত্র মজুদের গুদাম, উপগ্রহ যোগাযোগকেন্দ্র ও আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তাদের আবাসনকে নিজেদের সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের এই পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

দু’টি সুপার ট্যাংকার প্রতারিত হয়ে আঘাতপ্রাপ্ত

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের জনসংযোগ বিভাগ পৃথক এক বিবৃতিতে আরও জানায়: “ইরানের গর্বিত ও ঈমানদার জনগণ—জেনে রাখো, সেপাহ নৌবাহিনীর তোমাদের সন্তানেরা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার শপথে অবিচল রয়েছে।

কয়েক ঘণ্টা আগেই শিশুহত্যাকারী মার্কিন বাহিনী, যারা নিজেদের বারবার বিপর্যয় থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি, তারা কিছু জাহাজকে প্ররোচিত করে প্রণালীটির অবৈধ পথে চলাচল করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দু’টি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজ, যারা মার্কিন ষড়যন্ত্রে প্রতারিত হয়েছিল এবং নিজেদের নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের একাধিক সতর্কবাণী অগ্রাহ্য করে মাইন-বিস্তৃত বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছিল, তারা আমাদের হামলায় সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী স্পষ্ট ঘোষণা করছে—"যে কেউ দূর-দূরান্ত থেকে আগত এই আগ্রাসী শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা করবে, যে এসেছে এই অঞ্চলের জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে, তার পরিণতি হবে শুধু আক্ষেপ, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে বিলম্ব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট—অন্য কিছু নয়।”

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত

একই সময়ে হরমুজ প্রণালীর আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোনকে ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস বাহিনীর আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দ্বারা সনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়: “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী ধারাবাহিক উস্কানি ও আগ্রাসনের জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে নিযুক্ত সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি ডিপো, প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও অস্ত্র ভাণ্ডারকে নিজেদের বিধ্বংসী ড্রোন হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।"

পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রত্যুত্তরে ক্রুজ মিসাইল ছুড়ে মার্কিন শত্রুপক্ষের একটি যুদ্ধজাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলছে—তারা যেন শহীদ ইমামদের পথে অবিচল থাকা ইরানের মহান জাতির দৃঢ়তা, সংহতি ও আত্মত্যাগের চেতনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং এই পবিত্র ভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের কোনো আপস নেই। ইরানের পাল্টা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগ্রাসনের মাত্রা অনুযায়ীই পরিকল্পিত এবং তা আরও প্রবল গতিতে অব্যাহত থাকবে।”
 

পার্সটুডে/এমবিএ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।