যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ ইরান, অর্থনীতি এখন প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র: পেজেশকিয়ান
-
মাসুদ পেজেশকিয়ান
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ রয়েছে, যেখানে দেশটির অর্থনীতি ও জনগণের জীবিকাই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
গতকাল (সোমবার) তেহরানে বিচার বিভাগের উচ্চ পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক বা ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ পরিচালিত হচ্ছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, “আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রয়েছে। এই যুদ্ধ শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধ নয়; অর্থনীতি, জনগণের জীবনযাত্রা এবং দেশের বিভিন্ন খাতও এই সংঘাতের অংশ।”
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ বুঝতে পেরেছে যে, সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়।
দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, “দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অটল থাকব। এই পথ থেকে সরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।”
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সর্বস্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে বিদেশি চাপ মোকাবিলা এবং অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তার ভাষায়, "ইরানের প্রতিপক্ষ দেশটির অগ্রগতি ব্যাহত করতে এবং একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও সফল রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি বলেন, “তারা চায় না এই অঞ্চলে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও সফল দেশ গড়ে উঠুক। তাই আমাদের একই সঙ্গে বাহ্যিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এবং গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতীয় অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান কোনো ধরনের আপস করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা এবং গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় অধিকার ও স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষার ওপর জোর দেন এবং দেশের নীতি বা আদর্শ থেকে যেকোনো ধরনের পিছু হটার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১৪টি অনুচ্ছেদের কোনোটিতেই ইরান তার অধিকার, নীতি, জাতীয় স্বার্থ, বিপ্লবী মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের সাথে আপস করেনি।
তিনি জানান, ইরানের স্বার্থবিরোধী কোনো ছাড় দেয়া হয়নি এবং এই সমঝোতা স্মারকটি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এর বেশিরভাগ অর্জনই দেশের জন্য সুবিধাজনক।
পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, "বাস্তবিকভাবে এমন একটি অনুচ্ছেদও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যা মার্কিন পক্ষকে একতরফা সুবিধা এনে দিয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার আগ্রাসন চালিয়েছে। এমনকি গত জুনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পরও এই লঙ্ঘন অব্যাহত ছিল—যে স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদেই স্পষ্টভাবে সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।#
পার্সটুডে/এমএআর/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।