ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত সহ্য করা হবে না’—ইবনুর রেজা
-
ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ ইবনুর রেজা
ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ ইবনুর রেজা বলেছেন, “রমজান যুদ্ধে আমরা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কৌশলের ক্ষেত্রে আমাদের চমকপ্রদ সক্ষমতাও আগের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ছিল।”
ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও গবেষণাগার, জ্ঞানভিত্তিক কোম্পানি, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ এবং হাজার হাজার তরুণ ইরানি—যারা দেশের নিরাপত্তা ও শক্তি রক্ষায় দিনরাত কাজ করছেন—তারা ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি অংশ মাত্র।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যুদ্ধের জন্য নয়; বরং যুদ্ধ ও আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য। ইরান কখনো কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে ইরানের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর কোনো সামরিক আগ্রাসনও মেনে নেওয়া হবে না।
জেনারেল ইবনুর রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের জন্য একটি বড় শিক্ষা ছিল। যুদ্ধের তিক্ততা, ক্ষয়ক্ষতি ও গভীর শোকের পাশাপাশি ইরান বহু মূল্যবান মানুষকে হারিয়েছে—সেনা ও কমান্ডার, বিজ্ঞানী, নারী ও শিশুরাও এতে নিহত হয়েছেন। শহীদদের হারানোর এই বেদনা ইরানের কাছে কখনোই বিস্মৃত হওয়ার নয়।
তবে এই বড় বেদনার মধ্যেও ইরানের জনগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উপলব্ধি করেছে—তা হলো জাতীয় আত্মবিশ্বাসের শক্তি। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে, ইরানের জনগণ যদি নিজেদের পায়ে দাঁড়ায়, তরুণদের ওপর আস্থা রাখে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগায় এবং ঐক্যবদ্ধ ও সংহত থাকে, তাহলে তারা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
ইবনুর রেজা সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, যখন জনগণ ও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করেছে, তখন ইরান শত্রুদের মোকাবিলায় তার সব সক্ষমতা শক্তিশালীভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে।
১২ দিনের যুদ্ধ ও ৪০ দিনের যুদ্ধের তুলনা করে তিনি বলেন, “রমজান যুদ্ধে আমরা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে মাঠে নেমেছিলাম। প্রযুক্তি ও কৌশলের ক্ষেত্রেও আমাদের চমকপ্রদ সক্ষমতা আগের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, শত্রুর সামরিক ঘাঁটির গভীরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রবেশ, শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমান ভূপাতিত হওয়ার সংখ্যা, শত্রুর আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নজরদারি এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ—সবকিছুই আগের যুদ্ধের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।