ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান:
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির মোকাবিলা করেছি
-
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান আমির ব্রিগেডিয়ার শেখ
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান আমির ব্রিগেডিয়ার শেখ বলেছেন, আজ ইরান শত্রুকে কোণঠাসা করেছে। আর এর পেছনে রয়েছে সেই সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানুষদের অবদান, যারা এই মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
ইরানের রাষ্টীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, আমির ব্রিগেডিয়ার শেখ বলেন, আট বছরব্যাপী প্রতিরোধযুদ্ধের সময় আমরা প্রমাণ করতে পেরেছিলাম যে, ইরান বৈশ্বিক চাপ ও হামলার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে আমরা প্রতিরোধক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পরীক্ষা করেছি এবং ৪০ দিনের যুদ্ধে বিশ্বের সামনে আমাদের শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতার দৃঢ়তা তুলে ধরেছি। আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর বৈশ্বিক প্রযুক্তির মোকাবিলায়—কৌশল ও সামরিক সরঞ্জাম উভয় ক্ষেত্রেই—ইরানের সক্ষমতা আজ আলোচিত হচ্ছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান বলেন, শত্রুর কৌশল ও সামরিক মতবাদকে চ্যালেঞ্জ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রমাণ করেছে যে, তারা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ের একটি শক্তিশালী পক্ষ। সামরিক সরঞ্জামের দিক থেকে শত্রুর সঙ্গে আমাদের ব্যবধান অসম। কিন্তু শক্তির ভারসাম্য দেখিয়েছে, শত্রুই এখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং চাপে পড়েছে। আজ ইরান শত্রুকে কোণঠাসা করেছে। আর এর পেছনে রয়েছে সেইসব মানুষের অবদান, যারা এই মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
যুদ্ধের নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১২ ও ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং হরমুজের যুদ্ধের পর উভয় পক্ষই কিছুটা বিরতি পেয়েছে। বর্তমানে আমরা যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যবর্তী এক পরিস্থিতিতে রয়েছি। এ অবস্থায় আমরা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছি এবং কৌশল, প্রযুক্তি ও কার্যপদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করছি। সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঠিক সমন্বয় মার্কিন-ইসরায়েলি শক্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আমরা এমন প্রযুক্তি অর্জন করেছি, যার মাধ্যমে শত্রুর ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হচ্ছি।
ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দাঁড়াব এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যশীল শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করব। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে—যে শক্তি দাবি করে, বিশ্বের ৫০ শতাংশ সামরিক সক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, জাতীয় ইচ্ছাশক্তি প্রযুক্তির ওপর বিজয়ী হতে পারে।”
পার্সটুডে/এমবিএ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।