আমেরিকা-ইসরায়েল আবার যুদ্ধ চাইলে জবাব কেমন হবে জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
-
পেজেশকিয়ান (বামে)
পার্সটুডে- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু তারা যদি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়, আমরা আবারও শক্ত জবাব দেব।”
নিউইয়র্কে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি আলোচনায় যাওয়া—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ বেছে নিইনি; যুদ্ধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যখনই আমাদের ওপর হামলা হয়, তখন আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হই। আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি এবং করবও না। তবে তারা যদি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়, আমরা শক্তিশালী জবাব দেব।”
তিনি আরও বলেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক আইন ও কাঠামোর বাইরে গিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য বর্তমানে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু তা সম্ভব নয়।
আলোচনার শর্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আগে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেটির ভিত্তিতেই ইরান আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সেই সমঝোতা স্বাক্ষর করেছিলাম। আমরা সেই সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।”
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান আগে প্রণালিটি বন্ধ করেনি; সেটি খোলা ছিল। তিনি বলেন, কোনো আইনগত কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং দেশটির নেতা, সামরিক কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৬৮ জন শিক্ষার্থীকে হত্যা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, এসব ঘটনা মানবিকতা, মানবাধিকার ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য ছিল না এবং ইরান আত্মরক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, ইরান নতুন কোনো দাবি করছে না; বরং আন্তর্জাতিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আগে যে অধিকারগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলোই চায়।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনো হামলা শুরু করেনি। যারা দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রণালির দায়িত্বে ছিল, তারা যদি সেখানে নিজেদের জাহাজ চলাচল করাতে না পারে, তাহলে অন্য জাহাজের চলাচল নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কেন সেখানে এসে আমাদের জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে? নৌ চলাচল কি অবাধ নয়? কেন আমাদের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে?”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মূল সমস্যা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। তিনি ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ'র কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র সেটি থেকে সরে যায়। পরবর্তীতে আলোচনার সময়ও ইরানের ওপর হামলা হয়েছে। আবার আলোচনা, সমঝোতা ও চুক্তি স্বাক্ষরের পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—আইনি কাঠামো ও পারস্পরিক চুক্তি মেনে চলার নিশ্চয়তা না থাকলে কীভাবে আবার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আস্থা রাখা সম্ভব?
মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ইরানের অবস্থান
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ইরানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান মার্কিন নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত নয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় আসে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব অধিকার স্বীকার না করে, তাহলে নির্বাচন আগে হোক বা পরে—ইরানের জন্য তাতে কোনো পার্থক্য নেই।
যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের
চলতি যুদ্ধ বছর শেষ হওয়ার আগে শেষ হতে পারে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই উচিত।
তিনি বলেন, “যুদ্ধ কারও জন্যই ভালো নয়। মানুষ মানুষকে হত্যা করবে—আমি তা বিশ্বাস করি না। কোনো সমস্যা যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তখন রক্তপাতের মাধ্যমে তা সমাধান করা উচিত নয়।”
তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না; এখন যুদ্ধ শেষ করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।#
পার্সটুডে/এসএ/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।