মসজিদ প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতির কেন্দ্র: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i17866-মসজিদ_প্রতিরোধমূলক_সংস্কৃতির_কেন্দ্র_ইরানের_সর্বোচ্চ_নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, মসজিদ হচ্ছে সামাজিক তৎপরতার কেন্দ্র। তিনি বলেছেন, উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চিন্তা-চেতনার বিকাশ এবং জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২২, ২০১৬ ১০:২৩ Asia/Dhaka

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, মসজিদ হচ্ছে সামাজিক তৎপরতার কেন্দ্র। তিনি বলেছেন, উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চিন্তা-চেতনার বিকাশ এবং জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তেহরানের একদল আলেম ও মসজিদের ইমামকে দেয়া সাক্ষাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এসব কথা বলেন। ‘বিশ্ব মসজিদ দিবস’ উপলক্ষে এসব আলেম সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মসজিদকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ প্রতিরোধ না থাকলে সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, নামাজ ও সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে  নৈকট্য লাভ এবং জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং এটা ইসলামের অনেক বড় অবদান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেছেন, ইসলামের অতীত ইতিহাসে মসজিদ ছিল পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আর্থ-সামাজিক ও সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার কেন্দ্র। তিনি বলেন,  ইসলামের অতীত ইতিহাসে মসজিদের বিরাট ভূমিকা ছিল। এটি কেবল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এর কর্মকাণ্ড বিস্তৃতি লাভ করেছে। মসজিদ জনগণের ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি এটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরামর্শ ও সহযোগিতারও কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসূলের যুগে নামাজ পড়া ছাড়াও বিচার কাজ, স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন, যুদ্ধ ঘোষণা, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মসজিদ ব্যবহৃত হত। সব যুগেই উন্নত সমাজ ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় মসজিদের ভূমিকা এত বেশি যে, এর ফলে শত্রুদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মসজিদের কোনো বিকল্প নেই। বলা যায়, শত্রুদের মিথ্যা প্রচারণা মোকাবেলায় মুসলমানদের ইস্পাত কঠিন দুর্গ হচ্ছে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ। আর এ ক্ষেত্র মসজিদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ শক্তিশালী করা এবং জনগণের ঈমানকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে শত্রুদের মিথ্যা প্রচারণা মোকাবেলা করা সম্ভব। সঠিক ধর্মীয় সংস্কৃতির ভিত্তি যত-বেশী মজবুত হবে আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে মুসলমানরা ততবেশী এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ভিত্তি ছিল মসজিদ কেন্দ্রিক তৎপরতা। ইরানের তৎকালীন পাশ্চাত্য ঘেঁষা সরকারের ইসলাম বিরোধী তৎপরতা জনগণের কাছে তুলে ধরার কাজ মসজিদ থেকেই শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত ইসলামী বিপ্লবে রূপ নেয়।

জনগণের ঈমানের ওপর ভর করে সংঘটিত ইরানের ইসলামী বিপ্লব মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ আমূল পাল্টে দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লব স্বৈরাচারী সরকারগুলোর ভিত নড়বড়ে করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ইসলামের প্রতি ইরানের জনগণের ঈমান যদি মজবুত না থাকত তাহলে অন্য জাতিগুলোর মতো ইরানও আমেরিকার অনুগত হয়ে থাকত। এ কারণে আমেরিকা মুসলমানদেরকে ঈমান ও সত্যিকারের ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়।

ইসলামী বিপ্লবের ৩৭ বছর পর ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বিরাট শক্তি হিসেবে নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে দেশটি শত্রুদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে যার নেতৃত্বে রয়েছে আমেরিকা। শত্রুদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঈমানকে দুর্বল করে দেয়া যাতে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে তাদের মধ্যে ইসলামী সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে হতাশা সৃষ্টি করা যায়। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শত্রুদের ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মসজিদ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন। # 

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২২