তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ইরান সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i46985-তুরস্কের_প্রেসিডেন্টের_ইরান_সফরের_উদ্দেশ্য_নিয়ে_চলছে_চুলচেরা_বিশ্লেষণ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান একটি উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরান সফরে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তেহরান-আঙ্কারা কৌশলগত সহযোগিতা বিস্তারের আলোকে এরদোগানের এ সফরের গুরুত্বকে নানাভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ০৪, ২০১৭ ১৫:৪৮ Asia/Dhaka

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান একটি উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরান সফরে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তেহরান-আঙ্কারা কৌশলগত সহযোগিতা বিস্তারের আলোকে এরদোগানের এ সফরের গুরুত্বকে নানাভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের তেহরান সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক নানা ঘটনাবলীতে প্রতিবেশী এ দু'টি দেশের সহযোগিতার পরিমাণ আরো বাড়বে কিনা এবং কি এমন ঘটল যে তিনি তেহরানে এসেছেন তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া, অর্থনৈতিক সহযোগিতা নাকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।

ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাদেক মালেকি মনে করেন, "তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের তেহরান সফরকে অবশ্যই সাধুবাদ জানানো এবং বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত। একটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার অন্য দেশ সফর ব্যাপক অর্থপূর্ণ এবং এর বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।" তিনি বলেন, "তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এটা তৃতীয় ইরান সফর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে এরদোগানের এবারের সফরের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।"

ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ইরান ও তুরস্ক দীর্ঘকাল ধরে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু তাদের এ প্রতিদ্বন্দ্বীতাকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখা যেতে পারে। দু'দেশই বিরোধ এড়িয়ে অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে, তুরস্ক সরকারের বর্তমান নীতির সঙ্গে অতীতের অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সিরিয়ার ব্যাপারে তুরস্কের বর্তমান অবস্থান এবং উত্তর ইরাকের পরিবর্তিত পরিস্থিতির ব্যাপারেও আঙ্কারার স্পষ্ট নীতির আলোকে বলা যায়, আঙ্কারা এ অঞ্চলের বাস্তবতা আগের চেয়ে অনেক বেশি উপলব্ধি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে এনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের ব্যাপারে তুরস্ক এখন আন্তরিক বলেই মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ইরান ও তুরস্কের পারস্পরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ দু'দেশ তিনটি বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করেছে। প্রথমত, দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ, দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং তৃতীয়ত, দ্বিপক্ষী অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিস্তার। এ তিনটি ক্ষেত্রে ইরান ও তুরস্কের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি গতকাল (মঙ্গলবার) তেহরানে তুরস্কের সেনা প্রধান হুলুসি অকারের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, ইরান, ইরাক ও তুরস্ক মিলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করতে পারে এই তিন দেশ। এ সাক্ষাতে তুরস্কের সেনা প্রধান বলেছেন, তার দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে কোনো পরিবর্তন চায় না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতখানি ভূমিকা রাখতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তাদের মতে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রোধে ইরান ও তুরস্কের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হওয়া দরকার যাতে নতুন করে কেউ সংকট সৃষ্টি করতে না পারে।#   

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৪