জাতিসংঘে আমেরিকা ও ইসরাইলের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i47672-জাতিসংঘে_আমেরিকা_ও_ইসরাইলের_বক্তব্যের_কড়া_জবাব_দিল_ইরান
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিযুক্ত ইসরাইল ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত করেছেন। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধি তার দেশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য আমেরিকা ও ইসরাইলই দায়ী।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ১৪:৩৪ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিযুক্ত ইসরাইল ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত করেছেন। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধি তার দেশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য আমেরিকা ও ইসরাইলই দায়ী।

আলোচনার বিষয়বস্তু মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক হলেও আমেরিকা ও ইসরাইলি প্রতিনিধিরা অযাচিতভাবে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা প্রসঙ্গও সেখানে উত্থাপন করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি পরমাণু সমঝোতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি উত্থাপনের পাশাপাশি  মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত দখলদার ইসরাইলের প্রতিনিধি ড্যানি ডানোনও দাবি করেছেন, সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক সমাজকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বৈঠকে আমেরিকা ও ইসরাইলি প্রতিনিধিদের অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রতিনিধি গোলাম আলী খোশরো ইসরাইল এ পর্যন্ত ৬৮বার নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিন ভূমি জবরদখলের মধ্যদিয়ে ইসরাইলের ইতিহাস শুরু এবং তখন থেকে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি দখলদার ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার সর্বাত্মক সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের ছত্রছায়ায় তেলআবিব ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান সংকটের মূল কারণ খুঁজতে হলে ১৯৪৮ সালে দখলদারিত্বের মাধ্যমে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের দিকে নজর দিতে হবে যার পেছনে উপনিবেশবাদী শক্তিগুলোর সমর্থন ছিল। ব্রিটিশদের মাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর আমেরিকার বিভিন্ন সরকারের অর্থ ও অস্ত্রের সহায়তায় ইসরাইল এ অঞ্চলে নিজের অস্থানকে পাকাপোক্ত করার সুযোগ পায়। তখন থেকেই ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

যুদ্ধ, রক্তপাত ও আগ্রাসনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল প্রমাণ করেছে তারা শান্তিতে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু তারপরও তাদের প্রতি আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরাইলের হাতে রয়েছে পরমাণু অস্ত্র এবং তারা এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রধান হুমকি হয়ে আছে।

এ ছাড়া, ইসরাইল সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেয়ার জন্য সিরিয়ার সেনা অবস্থানে বারবার হামলা চালাচ্ছে। এ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে ইসরাইলের ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইসরাইলি হাসপাতালগুলোতে দায়েশ সন্ত্রাসীদের চিকিৎসা দেয়া, তাদেরকে অস্ত্র দেয়া, আশ্রয় দেয়া, মার্কিন হেলিকপ্টারের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া প্রভৃতি থেকে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে ইসরাইল ও আমেরিকার হাত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

কিন্তু তারপরও জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকা ও ইসরাইলের প্রতিনিধিরা যে কোনো বৈঠকে ইরানকে টার্গেট করে বক্তব্য দেয়। অথচ ইরান এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনের কাতারে রয়েছে। পশ্চিমা এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের যে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ছিল ইরান তা নস্যাত করে দেয়ায় ওয়াশিংটন  ও তেলআবিব প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। জাতিসংঘে বৈঠকে ইসরাইল ও আমেরিকার ইরান বিরোধী বক্তব্য থেকেই তাদের ক্ষোভের প্রমাণ পাওয়া যায়। #        

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৯