ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ত্রিভুজ অভিযোগের ব্যর্থতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i50113-ইরানের_বিরুদ্ধে_মার্কিন_ত্রিভুজ_অভিযোগের_ব্যর্থতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতি জর্জ বুশ জুনিয়রের নীতিতে ফিরে গিয়ে ইরানকে "অক্ষশক্তি" হিসেবে রূপ দিয়েছে। এ থেকে মনে হচ্ছে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নীতি-নির্ধারকরা ইরানের বিরুদ্ধে তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে তাদের কর্মপদ্ধতি তৈরি করেছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
ডিসেম্বর ২০, ২০১৭ ১৫:৫৫ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহকে ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার অভিযোগ নিকি হ্যালির
    ইরানের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহকে ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার অভিযোগ নিকি হ্যালির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতি জর্জ বুশ জুনিয়রের নীতিতে ফিরে গিয়ে ইরানকে "অক্ষশক্তি" হিসেবে রূপ দিয়েছে। এ থেকে মনে হচ্ছে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নীতি-নির্ধারকরা ইরানের বিরুদ্ধে তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে তাদের কর্মপদ্ধতি তৈরি করেছে।

এক, পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে ইরানের বিরোধিতা করা। দুই, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিকে প্রশ্নের সম্মুখিন করা। তিন, ইরানের আঞ্চলিক নীতিগুলোকে "হস্তক্ষেপকামী" বলে লেবেল দিয়ে সেগুলোর বিরোধিতা করা।

ট্রাম্প ভেবেছিল-ইরান পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করছে-এরকম অভিযোগ তুলে তাদের ইরান-ভীতি নীতিকে বৈধতা দেবে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণাকালে এবং নির্বাচিত হবার পরও পরমাণু সমঝোতাকে একটি "মন্দ চুক্তি" বলে অভিহিত করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনেই তিনি ওই চুক্তিটি ছিঁড়ে ফেলে দেবেন। তার এই কট্টর অবস্থানের কড়া জবাব তেহরান বরাবরই দিয়ে এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা সবসময় বলেছেন: আমেরিকা যদি পরমাণু সমঝোতা ছিঁড়ে ফেলে,আমরা তাকে আগুণে পুড়ে দেবো।

এক বছর হলো ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তার কট্টর অবস্থানের কারণে আজও কিছুই করতে পারে নি। পরমাণু সমঝোতা কিংবা ছয় জাতিগোষ্ঠিকেও পদতলে পিষ্ট করতে পারে নি। ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেও ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতাও হারাতে বসেছে।

পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প যখন বুঝতে পেরেছেন যে মিত্রদের হারিয়ে নি:সঙ্গ হয়ে গেছেন তখন তিনি তাঁর দ্বিতীয় কৌশল কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছেন। সেটা হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে তিনি টার্গেট করেছেন। সে কারণেই নিকি হ্যালি সম্প্রতি দাবি করেছেন ইরান ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বাহিনীকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে। অবশ্য ওই সাজানো নাটকও খুব একটা কাজে লাগে নি।

প্যারিসসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশ ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উন্নয়নের জন্য যতই চাপ সৃষ্টি করার জন্য উঠেপড়ে লাগুক না কেন,তাতে কোনো ফল বয়ে আসে নি। তার কারণ ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং সাক্ষ্য প্রমাণহীন।

সকল কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে "হস্তক্ষেপ" করার অভিযোগ তুলেছে। ইরান-ভীতি, শিয়া-ভীতি কিংবা "বিপ্লব-ভীতি"র পরিবর্তে এখন এই "হস্তক্ষেপ" করার অভিযোগ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে তেহরানের প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালাবো তারা।

অবশ্য ট্রাম্প নিজেই গত এক বছরে অভ্যন্তরীণ সমস্যাসহ অর্থনৈতিক বিচিত্র সমস্যার মধ্যে ছিলেন। ইরানের ব্যাপারে খুব বেশি সময় ও শক্তি কাজে লাগাতে পারেন নি। স্বয়ং মার্কিন নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতেও এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করার মতো কিংবা অবস্থার উন্নতি ঘটানোর মতো কোনো কর্মসূচি আমেরিকার নেই।

সুতরাং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না যে,ইরানের বিরুদ্ধে ত্রিভুজ অভিযোগের মধ্য দিয়েও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অবস্থার কোনো উন্নয়ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২০