"ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে বিশ্ববাসী সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পেরেছে"
-
মোহাম্মদ বাকেরি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি আমেরিকা কখনই মানেনি এবং শেষ পর্যন্ত এক তরফাভাবে এ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা প্রমাণ করল তাদের প্রতি মোটেই আস্থা রাখা যায় না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গতকাল (মঙ্গলবার) পরমাণু সমঝোতাকে ফলাফল শূন্য অভিহিত করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার নির্দেশনামায় সই করেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী তিনি একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে পারেন না। কারণ আরো পাঁচটি দেশ এতে সই করেছে এবং এর প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের সমর্থন রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, আমেরিকা কখনই পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, "ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর গত প্রায় ৪০ বছর ধরে আমেরিকা ইরান ও এ অঞ্চলের জাতিগুলোর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণ করে আসছে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তারা কোনো ভূমিকাই রাখেনি।" ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে একটি মনস্তাত্বিক যুদ্ধ। কিন্তু ইরানের জনগণ কখনও শত্রুদের প্রতারণার ফাঁদে পা দেবে না।"
ইরানের সংসদ মজলিশে শূরায়ে ইসলামির প্রধান আলী লারিজানিও ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে বিশ্ব পরিচালনার দাবিদার আমেরিকার ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "আমেরিকা এমন সময় ইরানের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যখন দেশটি নিজেই হাজার হাজার পরমাণু বোমার মজুদ গড়ে তুলে বিশ্বকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।"
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি বলেছেন, "ট্রাম্পের এ হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববাসী সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পেরেছে।"
এদিকে, আমেরিকার মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোও ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ইউরোপ এ সমঝোতা মেনে চলবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকেও এ চুক্তি মেনে চলার অনুরোধ করেন। এদিকে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিও এক যৌথ বিবৃতিতে পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকবে বলে জানিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে ইউরোপ এখন উভয় সংকটে পড়েছে। পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইউরোপ গত দুই মাসে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ থেকে বেরিয়ে না যান। ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯