দাম্ভিক শক্তিগুলোর দুশমনে পরিণত হয়েছে ইরান: সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী দেশের প্রখ্যাত গবেষক ও অধ্যাপকদের সঙ্গে এক বৈঠকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার নানা দিক তুলে ধরেছেন।
তিনি বিশ্বের জাতিগুলোর মধ্যে ইরানে উন্নত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "তার দেশ আজ দাম্ভিক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দুষমনে পরিণত হয়েছে এবং শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে বিরামহীন ষড়যন্ত্র চালিয়ে গেলেও আল্লাহর রহমতে তারা আমাদেরকে কোনো ক্ষেত্রেই কাবু করতে পারেনি।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যের অন্য অংশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও দখলদারদের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে যুদ্ধ, রক্তপাত, সন্ত্রাসবাদের বিস্তার, দখলদারিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।"
পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতির কারণেই আজ ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী জীবন যাপন করছে। দখলদার ইসরাইল গাজা অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের হত্যা করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইসরাইলের শিশু হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বর্তমান যুগের শিমার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইউরোপ সফরে গিয়ে নিজেদেরকে মজলুম হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছে ইরান লাখ লাখ ইহুদিকে ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু ইরান যে সমাধানের পন্থা বাতলে দিয়েছে তা হলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং গণতান্ত্রিক নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

নিঃসন্দেহে, ফিলিস্তিন সংকট কেবল মুসলিম বিশ্বের সমস্যা নয় বরং এটা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার দাবিদারদের সঙ্গেও সম্পর্কিত বিষয়। দু'টি কারণে ফিলিস্তিন সংকট এড়িয়ে যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি জাতির অধিকারকে পদদলিত করা হচ্ছে যা ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের মর্যাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। কেননা জাতিগুলোর অধিকার রক্ষার দায়িত্ব হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর। কিন্তু দুঃখজনকভাব আন্তর্জাতিক সমাজ ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে নীরব রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের অবৈধ লক্ষ্য হাসিলের জন্য আঞ্চলিক দখলদার শক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গাজা ও বায়তুল মোকাদ্দাসে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের ব্যাপারে ইউরোপের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সব সময়ই বলে আসছি, "ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশ্বের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পন্থা অর্থাৎ জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। অন্তত ৮০ বছর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বংশ পরম্পরায় যারা বসবাস করেছে তাদের অংশগ্রহণে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। ফিলিস্তিনের ভেতরে ও বাইরে থাকা মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানসহ সব প্রকৃত ফিলিস্তিনি এ গণভোটে তাদের মতামত দেবে।" তিনি বলেন, "ফিলিস্তিনের সব প্রকৃত নাগরিকের অংশগ্রহণে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব ইরানের উদ্যোগে জাতিসংঘে উত্থাপন ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।" তিনি প্রশ্ন করেন, "এটা কি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাহলে কেন ইউরোপীয়রা তা মানতে রাজি নয়?"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এরকম আরো অসংখ্য প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হলে পাশ্চাত্যের রাজনীতিবিদদের দ্বিমুখী আচরণের মধ্যে খুঁজতে হবে যারা কিনা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার মিথ্যা বুলি আওড়িয়ে চলেছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। তাদের কারণেই আজ ইসরাইল ও সৌদি আরব এতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১