মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য ইরানের জনগণ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i65660-মার্কিন_কঠোর_নিষেধাজ্ঞার_প্রধান_লক্ষ্য_ইরানের_জনগণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তার প্রধান উদ্দেশ্য ইরানের জনগণকে শাস্তি দেয়া। অথচ মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন ইরানের জনগণের স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ০৮, ২০১৮ ১৬:৫৪ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তার প্রধান উদ্দেশ্য ইরানের জনগণকে শাস্তি দেয়া। অথচ মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন ইরানের জনগণের স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান অ্যাকশান গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক দাবি করেছেন, "ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও দেশটির বিরুদ্ধে ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও কৃষি উপকরণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। তার এ দাবির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, "মার্কিন কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইরানের জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলেও তারা দাবি করছে ইরানের জনগণ তাদের টার্গেট নয়।"

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান অ্যাকশান গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক গতকাল বুধবার আরো বলেছেন, তেল বিক্রি বাবদ অর্থ যাতে ইরান না পায় সেজন্য দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা হবে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশেরই ইরানের তেল সরবরাহের বা বিক্রির অধিকার নেই এবং ইরানের জাহাজকে কোনো বিমা সুবিধাও দেয়া হবে না।

ব্রায়ান হুক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া। ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা, যাত্রীবাহী বিমান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এসব কিছুরই প্রভাব পড়ে সরাসরি ইরানের জনগণের ওপর। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মার্কিন এ পদক্ষেপ মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকারের প্রতিবেদক ইদ্রিস আল জাজিরি বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের জনগণ। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ও নির্যাতনমূলক।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন শত্রুতামূলক আচরণ আজ সবার কাছেই স্পষ্ট। এ অবস্থায় মার্কিন কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ দাবি করতে পারেন না যে তারা ইরানের জনগণের সমর্থক। অবশ্য মার্কিন এ আচরণ নতুন কিছু নয় এবং ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের জনগণ এটা দেখে আসছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এক সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। কিন্তু এখন তারা দাবি করছে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, তারা ইরানের জনগণকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে কারণ এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা বিপ্লবের শুরু থেকেই রয়েছে।

যাইহোক, গত ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রমাণিত হয়েছে, ট্রাম্পসহ আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টই ইরানের জনগণের বন্ধু নয় এবং সব সরকারই শত্রুতা করে এসেছে। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮  

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন