ইরাকে রুহানি: পর্যবেক্ষকদের মতে ইরান-মার্কিন প্রতিযোগিতায় তেহরানের বিজয়ের কারণ
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির নেতৃত্বে একটি উচ্চপদস্থ আর্থ-রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল সোমবার থেকে তিনদিনের ইরাক সফর শুরু করেছে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ ও প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদির আমন্ত্রণে দেশটি সফর করছেন রুহানি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রেসিডেন্ট রুহানির ঐতিহাসিক ইরাক সফরকে তেহরান-বাগদাদ সম্পর্ক জোরদারে নয়া অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভ্রাতৃপ্রতিম এই দুই দেশের জনগণের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণকারী আমেরিকা ও তার মিত্রদের ব্যাপক প্রচার প্রোপাগান্ডা সত্ত্বেও ইরানের প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ইরাক সফর করছেন যা কিনা শত্রুদেরকে হতাশ করেছে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহর উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক সফর শুরু হয়। এ সফরকালে প্রেসিডেন্ট রুহানি ইরাকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তা, আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও উপজাতি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এ ছাড়া, ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সিস্তানির সঙ্গে সাক্ষাত ও ইমামদের মাজার যিয়ারতে যাবেন বলে কথা রয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট রুহানির এ সফরকালে দু'দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু চুক্তি সই হয়েছে যা কিনা পশ্চিম এশিয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। সুইডেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল বিলদেত এক টুইটার বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ইরাক সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে একে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরাক সফরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নিয়ন্ত্রিত একটি বিমান ঘাঁটিতে গোপনে কিছু সংখ্যক সেনার সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন। এমনকি তিনি ইরাকের কোনো নেতার সঙ্গেও সাক্ষাত করেননি। অথচ ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি প্রকাশ্যে তিন দিনের জন্য ইরাক সফরে গেলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাত্র দুই ঘন্টার জন্য আল আনবার প্রদেশে অবস্থিত আইন আল আসাদ ঘাঁটিতে সফরে যাওয়ায় ইরাকিরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়। ইরাকের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা ট্রাম্পের গোপন সফরকে ইরাকের সরকার ও জনগণের জন্য অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেন।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্য দিবালোকে ইরাক সফরে গেলে তাকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
আমেরিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালালেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বিস্তারকে ঠেকাতে পারেনি। অ্যালেসা রুবিন নিউইয়র্ক টাইমসে এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, ইরাকে প্রভাব বিস্তারের জন্য আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে তাতে সত্যিকারভাবে ইরানেরই জয় হয়েছে। তিনি ইরাকি পার্লামেন্টের সাবেক মুখপাত্র ও সুন্নি মুসলমানদের প্রতিনিধি মাহমুদ আল মাশহাদানির উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, আয়তনে ইরান ছোট হলেও তাদের মগজ অনেক বড়। কিন্তু আমেরিকা অনেক বড় দেশ হলেও তাদের মগজ অনেক ছোট। আর এটাই ইরাকে ইরানের বিজয়ের সত্যিকারের কারণ।
আমেরিকার ব্যাপক চাপ সত্বেও ইরাক বর্তমানে ইরানের প্রধান বাণিজ্য শরীক দেশ। অভিন্ন ধর্মীয় বন্ধন ইরাক-ইরান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি বড় কারণ। এ ছাড়া, ইরান ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত কুর্দিদের সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ইরান শুধু বাগদাদের সঙ্গেই নয় কুর্দিসহ দেশটির অন্যান্য প্রদেশ ও শহরেও অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করেছে। এরই আলোকে ইরানের প্রেসিডেন্টের ইরাক সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১২
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন