ইরানের প্রেসিডেন্টের ইরাক সফর: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে নয়া অধ্যায়ের সূচনা
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির তিন দিনের ইরাক সফর আজ শেষ হয়েছে। ইরান ও ইরাক এক যৌথ বিবৃতিতে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট রুহানির এ সফর থেকে দু'দেশের সম্পর্কের গভীরতা ফুটে উঠেছে এবং তা সহযোগিতা বিস্তারে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের ইরাক সফরকালে দু'দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তেল, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, পরিবহন, রেল যোগাযোগ এবং ব্যবসায়ী ও পুঁজিবিনিয়োগকারীদের ভিসা প্রদান সহজকরণ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া, দু'দেশের মধ্যে নতুন নতুন সীমান্ত পারাপার বা ক্রসিং পয়েন্ট নির্মাণ, যৌথ শিল্প উপশহর তৈরি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় পণ্য খালাস ছাড়াই দু'দেশের মধ্যে একবারে পণ্য আনা নেয়ার ব্যবস্থা করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান হানি যাদেহ ইরাক-ইরান সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বহু বিষয়ে দু'দেশের মধ্যে মিল রয়েছে এবং ইরাকের ভেতরে কিছু মহলের আপত্তি সত্ত্বেও দু'দেশের সরকার বাণিজ্য বিনিময়ের পরিমাণ ১২শ' কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০০ কোটি ডলারে উন্নিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির ইরাক সফরে মার্কিন কর্মকর্তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কারণ এটা প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকা যত চেষ্টাই করুক না কেন তারা এই দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান অ্যাকশান গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক ইরাকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফরে ক্ষুব্ধ ও হতাশা প্রকাশ করে দাবি করেছেন, এই সফর ইরাকের জনগণের অনুকূলে নয়। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ ১৫ মার্চ থেকে আরো এক বছরের জন্য নবায়ন করার কথা জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি প্রেসিডেন্ট রুহানির ইরাক সফরের ব্যাপারে মার্কিন প্রতিক্রিয়ার জবাবে বলেছেন, তাদের ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টিতে আমরা মোটেও অবাক হইনি। কারণ আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেও এ অঞ্চলের জাতিগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিতে পারেনি। এর জন্য মূলত আমেরিকার আগ্রাসন, সামরিকিকরণ ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডই দায়ী।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আজকে ইরাকে যে নিরাপত্তা বিরাজ করছে তার পেছনে আমেরিকার কোনো অবদান নেই। কারণ আমেরিকা ইরাকসহ এ অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের প্রধান সমর্থক। ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি ইরাকে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হাশত আশ্ শাবির আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইরাকের জনগণের জিহাদি চেতনা এবং ধর্মীয় নেতাদের প্রতি তাদের আনুগত্যের কারণে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাফল্য এসেছে।
যাইহোক, ইরান সবসময়ই ইরাকি জনগণের দুর্দিনে তাদের পাশে ছিল এবং সব রকম সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের ইরাক সফরের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩