ইরানকে মোকাবেলায় ইতিহাসে নজিরবিহীন বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব পেন্টাগনের
-
পেন্টাগন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে প্রকাশ্যে ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে তিনি পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে এসে ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।
অর্থনৈতিক যুদ্ধের পাশাপাশি ট্রাম্প রাজনৈতিক যুদ্ধেও ইরানকে পরাস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০১৭ সালের জাতীয় নিরাপত্তা সনদ অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে জোট গঠন এবং এ অঞ্চলে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রতি ইরানের সমর্থনের মিথ্যা অভিযোগ তুল আগামী বছর সামরিক খাতের জন্য নজিরবিহীন বাজেট আদায়ের চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে পেন্টাগনের জন্য ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের আবেদন জানিয়েছে। আমেরিকার ইতিহাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় অংকের অর্থের আবেদন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের কর্মকর্তা প্যাট্রিক শানাহান ২০২০ সালের জন্য পেন্টাগনের বাজেট প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আবারো ইরানসহ আরো কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
তিনি চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও সন্ত্রাসবাদকে পেন্টাগনের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পেন্টাগনের বাজেট প্রস্তাবে যদিও ইরানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু চীন ও রাশিয়াকে মোকাবেলার অজুহাতেই মূলত বিশাল অংকের বাজেট চাওয়া হয়েছে। ইরানকেও মার্কিন নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের কর্মকর্তা প্যাট্রিক শানাহান দাবি করেছেন, ইরানের সাইবার সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং পশ্চিম এশিয়ায় দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব আমেরিকার জন্য হুমকি।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সরকার সবসময়ই সামরিক খাতে বেশি বেশি বাজেট পাওয়ার জন্য চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে। যেমন, ২০১৭ সালে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সনদ অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ আহমাদ হোসেইনি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়াসহ সারা বিশ্বে আমেরিকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় ইরান আজ ওয়াশিংটনের জন্য জন্য প্রধান হুমকি ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবৈধ নিষেধাজ্ঞার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরান যাতে পশ্চিম এশিয়ায় তার নীতি বা লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে না পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান একটি আঞ্চলিক শক্তি এবং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে দেশটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া, ইসলামি ইরানের প্রতি এ অঞ্চলের জনগণের সমর্থন রয়েছে। এ অবস্থায় পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব কমানো কিংবা দেশটির তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করার মার্কিন স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। এমনকি ইউরোপও এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাবের বিষয়টিকে উপেক্ষা করতে পারেনি। কিন্তু তারপরও আমেরিকা এ অঞ্চলে ইরানকে মোকাবেলা করার জন্য ন্যাটোর আদলে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে আরব ন্যাটো জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫