ট্রাম্পের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হুমকি পম্পেও'র
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i69068-ট্রাম্পের_নজিরবিহীন_নিষেধাজ্ঞার_পরও_ইরানের_বিরুদ্ধে_নতুন_করে_হুমকি_পম্পেও'র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতির একটি অন্যতম দিক হচ্ছে ওয়াশিংটনের বিরোধী বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে চাপে রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এক তরফা এসব নিষেধাজ্ঞা নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবসহ সব আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বিরোধী।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মার্চ ২৩, ২০১৯ ১৩:৩৩ Asia/Dhaka
  • মাইক পম্পেও
    মাইক পম্পেও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতির একটি অন্যতম দিক হচ্ছে ওয়াশিংটনের বিরোধী বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে চাপে রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এক তরফা এসব নিষেধাজ্ঞা নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবসহ সব আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বিরোধী।

দুই দফায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ট্রাম্প ইতিহাসের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করলেও এরপরও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে গত ২২ মার্চ ইরানের আরো ১৪ ব্যক্তি এবং ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে জড়িত ইরানের এসব ব্যক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয় আরো বলেছে, যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা ইরানের অস্ত্র তৈরিতে সহযোগিতা করলে তাদেরকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন বলেছেন,  তার ভাষায় ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে অর্থনৈতিকসহ সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে আমেরিকা।

এমন সময় তিনি এসব কথা বলেছেন, যখন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি এবং পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী সব প্রতিশ্রুতিই পালন করছে তেহরান। আইএইএ'র এসব প্রতিবেদনের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পায় না আমেরিকা। এ কারণে তারা এখন অপারমাণবিক বিষয় অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র ও পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব বিস্তারকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।

এমনকি আমেরিকা ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানবিক বিষয়গুলোকেও উপেক্ষা করেছে। খাদ্য ও ওষুধের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না বলে দাবি করলেও তারা এ দুটি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এমনকি ইরানের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানিকেও আমেরিকা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ থেকে বোঝা যায় আমেরিকার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে ইরানি জাতিকে ওয়াশিংটনের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

এ অবস্থায় আমেরিকা আবারো নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও হুমকি দেয়া শুরু করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টুইট বার্তায় বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রী ভাল করেই জানে যে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। কিন্তু তারপরও নিজেদের অন্যায় কাজের যৌক্তিকতা তুলে ধরার জন্য তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।

আমেরিকা এভাবে হুমকি ও পেশি শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু গত ৪০ বছর ধরে ইরান আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে এসেছে এবং ওয়াশিংটনের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইরান প্রমাণ করেছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় তারা সফল।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩