ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা: সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টিই একমাত্র লক্ষ্য
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i70237-ইরানের_বিরুদ্ধে_আমেরিকার_নতুন_নিষেধাজ্ঞা_সর্বোচ্চ_চাপ_সৃষ্টিই_একমাত্র_লক্ষ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মে ০৯, ২০১৯ ১৩:২৬ Asia/Dhaka
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আমেরিকার এক তরফা এ পদক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবসহ আন্তর্জাতিক সব রীতিনীতির লঙ্ঘন। ওই নিষেধাজ্ঞাকে আমেরিকা ইতিহাসে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করে। কিন্তু এরপরও ওয়াশিংটন নতুন নতুন আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের স্টিল ও খনি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, "ইরানের লোহা, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, তামাসহ অন্যান্য ধাতব রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল।" এর মাধ্যমে ইরানের রাজস্ব খাতকে আরো কঠিন অবস্থার মুখে ফেলে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক এক বছর পর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিলেন। এমনকি যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ও পুঁজি বিনিয়োগকারী ইরানের ধাতব ও খনিজ খাতে জড়িত তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ট্রাম্প আরো বলেছেন, ইরান তার আচরণে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে তেহরানের বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এ নীতির তীব্র সমালোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রতিবেদক ইদ্রিস জাজায়েরি এ ব্যাপারে বলেছেন, "আমি এ জন্য চিন্তিত যে (আমেরিকার মতো) একটি দেশ আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার ওপর নিজের কর্তৃত্ব বা প্রভাব ব্যবহার করে শুধু যে ইরানের জনগণের ওপর আঘাত হেনেছে তাই নয় একইসঙ্গে চুক্তির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকেও আঘাত হেনেছে। অথচ ইরানের সরকার ও জনগণ পরমাণু সমঝোতা ঠিকই মেনে চলছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নীতি শ্রেফ হুমকি ও জোর জবরদস্তিমূলক। কিন্তু তারপরও ইরান গত ৪০ বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে এসেছে এবং তাদের সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "আমেরিকা খুব সন্তুষ্ট চিত্তে এ  কথা বলছে যে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা ইতিহাসে নজিরবিহীন। কিন্তু ইরানি জাতি এ সংকট থেকেও বেরিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।"

এদিকে, ইরান প্রমাণ করেছে, তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সক্ষম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতির ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমরা মার্কিন চাপের কাছে কখনো নতি স্বীকার করব না।

যাইহোক, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা পরমাণু সমঝোতা ও নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধারণা ইরানের আয়ের উৎস বন্ধ করে দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে কাবু করা যাবে। কিন্তু ইরান তার অভ্যন্তরীণ শক্তি সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে#            

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯