আলোচনার টেবিল থেকে উঠে গেলেন কেন, ব্যাখ্যা দিন: ট্রাম্পের প্রতি ইরান
-
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মজিদ তাখতে রাভাঞ্চি
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে দুটি বিষয়ে পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একটি আমেরিকার প্রতি ইরানের অনাস্থা অন্যটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইউরোপের দুর্বলতা বা অপারগতা।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মজিদ তাখতে রাভাঞ্চি এনবিসি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই ব্যাখ্যা দিতে হবে তিনি কেন আলোচনার টেবিল থেকে উঠে গেলেন? কারণ ট্রাম্প এমন সময় আলোচনার টেবিল থেকে উঠে গিয়েছিলেন যখন বিশ্ব শক্তিগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ওই টেবিলে বসে ছিল।" এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি কেন ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মজিদ তাখতে রাভাঞ্চি।
তিনি এনবিসি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউরোপের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। ইরানি রাষ্ট্রদূত পরমাণু সমঝোতার কিছু কিছু ধারা বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত এবং ব্যাংকিং ও তেল খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিতে ইউরোপকে দুই মাস সময় দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, "ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরমাণু সমঝোতায় আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা এ যাবত মেনে চলেছি।" তিনি বলেন, এটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি হলেও আমেরিকা যেদিন এ থেকে বেরিয়ে গেছে সেদিনই এর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সেসময় ইউরোপ আমাদেরকে বলেছিল আমরা যেন পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করি। আমরা ইউরোপের সে প্রস্তাব মেনে নিয়ে এক বছর অপেক্ষা করেছি এবং আশা করেছিলাম মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মোকাবেলায় ইউরোপ ব্যবস্থা নেবে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদিও দাবি করছে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার জন্য তারা সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এসবই তাদের লোক দেখানো চেষ্টা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেছেন, "ইউরোপীয়রা এটা প্রমাণ করেছে স্পর্শকাতর সময়ে তারা আমেরিকার স্বার্থে কাজ করে এবং ইউরোপীয়রা মাঝে মধ্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বললেও বাস্তবে তারা আমেরিকার অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কখনোই রুখে দাঁড়ায়নি।"
বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরোপীয়রা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা মানবাধিকার ইস্যুতে সবসময়ই আমেরিকার পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে। এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করেন, চলমান উত্তেজনায় তিনি ইউরোপের সমর্থন পাবেন। কিন্তু ইউরোপীয়রা আমেরিকার মতো একই ভুলে পা বাড়াবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ আমেরিকার বেআইনি ও অযৌক্তিক নীতির অনুসরণ করতে গিয়ে খোদ ইউরোপ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, তার দেশ পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে আসার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে যেন ইউরোপ উপেক্ষা করার চেষ্টা না করে।
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১