পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় প্রয়োজন ইউরোপের স্বাধীন নীতি গ্রহণ: আরাকচি
-
আব্বাস আরাকচি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর ইরানও ওই চুক্তির দু'টি ধারা বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দিয়েছিল। এর জন্য তেহরান ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৬০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিল এ সময়ের মধ্যে তারা যদি ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয় তাহলে ইরান ওই হুমকি বাস্তবায়ন করবে। এবং ইরান জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব রকম পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আজ অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের বৈঠক শুরুর আগে বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট দেশগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মোকাবেলায় ইরানের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। তিনি এ ব্যাপারে ইউরোপের স্বাধীন নীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর ৮ মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় নেতারা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার জন্য তেহরানকে অনুরোধ করে যাতে বিশ্বের এতবড় কূটনৈতিক সাফল্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলেও এবং এসময়টিতে ইরান ব্যাপক ধৈর্য ধারণ ও আন্তরিকতার প্রমাণ দিলেও পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে ইরানের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ কারণে দেশটি এক বছর পর পরমাণু সমঝোতার দুটি ধারা বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দিয়ে ইউরোপকে দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছিল। পরমাণু চুক্তি অনুযায়ীই ইরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তারপরও ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার জন্য ইরানের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অন্য দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করার অর্থই হচ্ছে পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচি আমেরিকার অন্যায়ের ব্যাপারে ইউরোপের নমনীয়তার সমালোচনা করে বলেছেন, ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। যেহেতু তারা এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাই সেই প্রতিশ্রুতি তাদের বাস্তবায়ন করা উচিত।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ব্যাপারে তাদের খুব একটা মাথা ব্যথা নেই। কারণ এ ইস্যুতে তারা আমেরিকার নীতিরই অনুসরণ করছে। তবে ইরান তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে, তেহরান ইউরোপের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং পরমাণু সমঝোতা রক্ষার দায়িত্ব ইরানের একার নয়।
যাইহোক, ভিয়েনায় চলমান বৈঠকে যদি ইউরোপ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে এটা নিশ্চিত যে ইরান জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮