আইএইএ’র বৈঠকে আমেরিকার জনবিচ্ছিন্নতা প্রমাণিত হয়েছে: ইরান
-
আল-মায়াদিন\'কে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন জারিফ (বৃহস্পতিবারের ছবি)
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র সাম্প্রতিক জরুরি বৈঠকে বিশ্ব অঙ্গনে আমেরিকার কোণঠাসা ও একঘরে হয়ে পড়ার বিষয়টি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি লেবাননের আল-মায়াদিন টিভিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বুধবার আইএইএ’র সদরদপ্তরে এ সংস্থার ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী বোর্ডের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরান ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে বলে অজুহাত তুলে আমেরিকা এ জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছিল। মার্কিন সরকার এমন সময় ইরানকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে যখন সে নিজে এক বছরেরও বেশি সময় আগে এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে এটিকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন সরকারের ওই আচরণের প্রতিবাদে ইরান সম্প্রতি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ ভাগ অতিক্রম করে।
আইএইএ’তে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম গারিব-আবাদি জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার এ সংস্থার জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানানোর জন্য অনেকগুলো দেশের কাছে ধর্না দেয়। কিন্তু কোনো দেশ তাতে সাড়া না দেয়ায় আমেরিকা নিজেই এ বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ করতে বাধ্য হয়। বৈঠক থেকে আমেরিকা ইরানের তীব্র নিন্দা জানানো বা ইরান-বিরোধী ব্যবস্থা নেয়ার আশা করে। কিন্তু আমেরিকার আশাকে দুরাশায় পরিণত করে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দিয়েই আইএইএ’র জরুরি বৈঠক শেষ হয়।
আল-মায়াদিন টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জারিফ আরো বলেন, রাজনৈতিক দিক দিয়ে আমেরিকার এই কোণঠাসা অবস্থা একদিন আমেরিকাকে অর্থনৈতিক দিক দিয়েও কোণঠাসা করে ফেলবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে যেকোনো পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি তেহরান নিয়ে রেখেছে। জারিফ আরো বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করতে চায় না, তবে আমেরিকা সংঘাতে যেতে চাইলে তাকে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।#
পার্সটুডে/মো. মুজাহিদুল ইসলাম/১২