তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সৌদি আরব যেসব কারণে ইরানকে অভিযুক্ত করেছে
সৌদি সরকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা চিঠিতে দাবি করেছে, সেদেশের দু'টি তেল স্থাপনায় হামলায় যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা ইরানের তৈরি।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী গত ১৪ সেপ্টেম্বর ১০টি ড্রোনের সাহায্যে সৌদি আরবে আরামকো কোম্পানির পরিচালিত দু'টি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের হামলা চালায়। ওই হামলায় তেল স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, ইয়েমেন নয় বরং ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় সৌদি আরব কেন আরামকো তেল কেন্দ্রে হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করছে সেটাই এখন প্রশ্ন।
এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায় প্রথমত, ইয়েমেনি যোদ্ধাদের পাল্টা হামলার কারণে এ যুদ্ধে শক্তির ভারসাম্য এককভাবে সৌদি আরবের দিকে আর নেই। তা ছাড়া দরিদ্র একটি দেশের ড্রোন হামলায় অর্ধেক তেলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এটাকে সৌদি আরবের জন্য খুবই অবমাননাকর হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শক্তি সামর্থ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের কোনো তুলনাই চলে না। এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সৌদি আরব বিশ্ববাসীকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, এ ধরণের হামলা চালানোর ক্ষমতা ইয়েমেনের নেই বরং এর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে।
ইরানকে দায়ী করার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, সৌদি তেল স্থাপনায় ইয়েমেনিদের হামলার পর আবারো এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাইরে থেকে আমদানি করার জিনিস নয়। সৌদি আরব বাইরে থেকে নিরাপত্তা আমদানি করার নীতিতে বিশ্বাসী এবং দেশটি নিজের নিরাপত্তাকে আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে এবং সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ইয়েমেনিরা প্রমাণ করেছে তারা নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিতে বিশ্বাসী যা কিনা এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত। এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনিদের স্বনির্ভরতা সৌদি আরবের জন্য আরেকটি লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইয়েমেনিদের এই ইতিবাচক দিকগুলোকে খাটো করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও সৌদি অভিযোগের জবাবে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, ড্রোন হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত নয় বরং ইয়েমেনিরা নিজস্ব শক্তির ওপর ভর করে প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তুলেছে।
ইরানকে দায়ী করার তৃতীয় কারণ হচ্ছে, এর মাধ্যমে সৌদি আরব আবারো এ অঞ্চলে ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং এর প্রতি আমেরিকারও সমর্থন রয়েছে।
চতুর্থ কারণ হচ্ছে, ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে সৌদি আরব গত কয়েক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়ে সেই ব্যর্থতাকে ঢাকার চেষ্টা করছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেনি যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় সৌদি আরবের বিশাল ক্ষয়ক্ষতিতে রিয়াদের এখন মুখ লুকাবার উপায় নেই। এরপরও তারা যদি ইয়েমেনে গণহত্যা বন্ধ না করে তাহলে আরো কঠিন পরিণতি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০