আইএস সৃষ্টিতে মার্কিন হাত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প
-
(বায়ে) আইএস নেতা বাগদাদি
উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত থাকার বিষয়টি সবারই জানা আছে। এ গোষ্ঠীর নেতা আবু বকর আল বাগদাদির নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমেরিকা এটাকে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সাফল্য ও কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে এ সংবাদ সম্মেলনে বাগদাদির নিহত হওয়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতাকে হত্যা করেছে এবং তিনি নিজে অভিযান তদারকি করেছেন। আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো দাবি করেন, "বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিচার হয়েছে কারণ সে ছিল আইএস সৃষ্টির মূল হোতা এবং আমার মিত্রদের সহযোগিতায় আইএস খেলাফতের অবসান ঘটেছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত দাম্ভিকতার সাথে বাগদাদির নিহত হওয়ার বিষয়টিকে নিজেদের কৃতিত্ব বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ এটা সবারই জানা আছে যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে গোলযোগ সৃষ্টি ও সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের মূল হোতা খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু তারপরও তিনি আসল সত্য ধামাচাপা দেয়ার জন্য নিজেকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। সাবেক প্রেসিডেন্টদের মতো ট্রাম্পও নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরার জন্য কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন এবং এমনকি আইএস সৃষ্টিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার হাত রয়েছে বলে ট্রাম্প এর আগে যে দাবি করেছিলেন তাও যেন তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এক নির্বাচনী বক্তৃতায় বলেছিলেন, ওবামা ও ট্রাম্প বিশ্বাসযোগ্য নন এবং আইএস সৃষ্টিতে তাদের হাত রয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনও আইএস সৃষ্টিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামার হাত ছিল বলে দাবি করেছিলেন।
এ অবস্থায় আইএস সৃষ্টির ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট কি তার আগের দেয়া বক্তব্য ভুলে গেছেন নাকি বাগদাদি হত্যার ঘটনায় নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরে ইমপিচের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন সেটাই এখন প্রশ্ন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান ন্যান্সি পোলিসি আইএস নেতা বাগদাদিকে হত্যা পরিকল্পনার বিষয়টি প্রতিনিধি পরিষদকে অবহিত না করার সমালোচনা করে বলেছেন, বিষয়টি প্রতিনিধি পরিষদকে জানানো উচিত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেন গেট কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় তার ইমপিচ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় এমন একটি বড় ধরণের ঘটনা সৃষ্টির প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল যাতে তিনি ইমপিচ হওয়া থেকে রেহাই পান। ট্রাম্পের ধারণা ছিল বাগদাদিকে হত্যার মাধ্যমে তিনি তার মর্যাদা ফিরে পাবেন এবং ওয়াশিংটনের মিত্রদেরও সমর্থন পাবেন।
তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব করে আইএস সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত থাকার বিষয়টিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধামাচাপা দিতে পারবেন না। সিরিয়ায় আমেরিকার কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে ওয়াশিংটনের সর্বাত্মক সাহায্য সমর্থন নিয়ে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে আইএস সন্ত্রাসীরা ইরাক ও সিরিয়ার বহু এলাকা দখল করেছিল।
এ অবস্থায় আইএস সৃষ্টিতে আমেরিকার সব সরকারের হাত থাকা সত্বেও বাগদাদিকে হত্যার দাবি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ থেকে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮