বাগদাদি ও আইএস সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত ছিল: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i74939-বাগদাদি_ও_আইএস_সৃষ্টিতে_আমেরিকার_হাত_ছিল_রুশ_পররাষ্ট্রমন্ত্রী_ল্যাভরভ
সিরিয়ায় সংকট শুরুর পর সেদেশে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস সৃষ্টিতে আমেরিকার ভূমিকা থাকার কথা সবারই জানা আছে। যদিও আইএসের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধের নামে আমেরিকা তাদের সেই কলঙ্ক ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করছে।
(last modified 2026-02-27T09:00:49+00:00 )
নভেম্বর ০২, ২০১৯ ১৬:৩০ Asia/Dhaka
  • রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ
    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ

সিরিয়ায় সংকট শুরুর পর সেদেশে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস সৃষ্টিতে আমেরিকার ভূমিকা থাকার কথা সবারই জানা আছে। যদিও আইএসের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধের নামে আমেরিকা তাদের সেই কলঙ্ক ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করছে।

আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া বহুবার এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সর্বশেষ প্রতিক্রিয়ায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত শুক্রবার আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির নিহত হওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, "আইএস ও বাগদাদি আমেরিকারই তৈরি।" ল্যাভরভ আরো বলেছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী বাগদাদি যদি সত্যিই নিহত হয়ে থাকে তাহলে বলতে হবে আমেরিকা নিজের হাতে বাগদাদিকে তৈরি করে আবার নিজেই তাকে হত্যা করেছে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আবু বকর আল বাগদাদির নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিলেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ২০০৯ সালে ইরাকের আবু গোরাইব জেলখানা থেকে আবু বকর আল বাগদাদিকে ছেড়ে দেয়ার পর তারই নেতৃত্বে আইএস সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে। এরপর আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ও নজিরবিহীন গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বাগদাদিকে ব্যবহার শেষে আমেরিকা তাকে হত্যা করল যাতে বাগদাদি ও আইএস সৃষ্টিতে মার্কিন হাত থাকার বিষয়টি কিংবা অন্যান্য গোপন রহস্য যাতে কেউ কখনো জানতে না পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, নিহত আবু বকর আল বাগদাদিসহ আইএস সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা স্বীকার করেছে তাদের আগমনের পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে। মুসাভি আরো বলেন, এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে এবং ব্যবহার শেষে তাদেরকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় আমেরিকা।

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইএস সন্ত্রাসী গ্রুপের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপের সহযোগিতায় আমেরিকা সিরিয়ায় সংকটের বিস্তার ঘটিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদেরকে ভাল ও মন্দ এ দু'টি ভাগে ভাগ করেছে। এরপর তারা আইএস সন্ত্রাসীদেরকে ভাল সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে তাদেরকে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার দাবি করেছেন, তারা আইএসকে নির্মূলে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে তিনি আইএসকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে আরো শক্তিশালী করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আইএস সৃষ্টি করেছেন। আইএস সৃষ্টিতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনেরও হাত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা সবসময়ই আইএসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিছুদিন পরপরই তারা আইএসকে নির্মূলের কথা বলছে অথচ এ ব্যাপারে তারা কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। এর আগেও আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আমেরিকা নিজেই লাদেনকে সৃষ্টি করে আবার প্রয়োজন শেষে ওয়াশিংটনই তাকে হত্যা করেছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২