ভিয়েনা বৈঠকে পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি ধ্বংসের আহ্বান জানাল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i75497-ভিয়েনা_বৈঠকে_পরমাণু_অস্ত্র_পুরোপুরি_ধ্বংসের_আহ্বান_জানাল_ইরান
"ইরান সবসময়ই সমস্ত পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি সিটিবিটি'র প্রতি সমর্থন জানায়।" ভিয়েনায় জাতিসংঘ দফতরে ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক কমিশনের ৩৫তম বৈঠকে বলেছেন, সিটিবিটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২৬, ২০১৯ ১৬:০৫ Asia/Dhaka
  • কাজেম গারিব আবাদি
    কাজেম গারিব আবাদি

"ইরান সবসময়ই সমস্ত পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি সিটিবিটি'র প্রতি সমর্থন জানায়।" ভিয়েনায় জাতিসংঘ দফতরে ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক কমিশনের ৩৫তম বৈঠকে বলেছেন, সিটিবিটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।

১৯৯৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সিটিবিটি চুক্তি অনুমোদন লাভ করে। হাডসন থিংকট্যাংকের মারণাস্ত্র বিরোধী ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ক্রিস্টোফার অ্যাশলি ফার্ড বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অত্যাধুনিক পরমাণু অস্ত্র তৈরি এবং এ ব্যাপারে বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যকার ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতা। তাই সিটিবিটি এবং পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা।

এনপিটি'র ছয় নম্বর ধারায় পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সাত নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচ বছর পরপর এনপিটি'র বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের অবস্থা বা ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। ২০০০ সালে এই চুক্তি পর্যালোচনা বিষয়ক এক বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক ছয় নম্বর ধারা সন্নিবেশিত করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত এনপিটি'র পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ক সম্মেলনে দেখা যায় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সিটিবিটি চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কোনো বৈষম্য ছাড়াই শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু জ্বালানি গবেষণা, উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এখনো বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী আমেরিকা জাপানে পরমাণু বোমা ব্যবহার করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক নজরদারীর বাইরে অবস্থিত আরেকটি পরমাণু অস্ত্রধর দখলদার ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। অথচ ইরান যাতে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্য আমেরিকা উঠেপড়ে লেগেছে।

জাপানে পরমাণু বোমা মেরে আমেরিকার মানবতাবিরোধী কলঙ্কজনক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, "পরমাণু বোমা দিয়ে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিরপরাধ মানুষকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে যে মানুষ কখনো ভুলে যাবে না।"

পরমাণু বিজ্ঞানী বোল্টন বলেছেন, আমেরিকার হাতে প্রায় তিন হাজার ৮০০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে যার মধ্যে এক হাজার ৭৫০টি বোমা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানে বসানো হয়েছে। এরপরও আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক সামজকে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। যদিও আমেরিকা তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। কারণ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ আজ পর্যন্ত ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে বিচ্যুতির কোনো প্রমাণ পায়নি।

এ অবস্থায় ভিয়েনায় জাতিসংঘ দফতরে ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক কমিশনের বৈঠকে সিটিবিটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর যে গুরুত্বারোপ করেছেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #          

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৬